কলকাতার সেরা কালীপুজো! এই মণ্ডপগুলো কি আপনার তালিকায় আছে?
বার্তা ডেস্কঃ
কালীপুজোর রাতে শহর কলকাতা: ঐতিহ্য ও উৎসবের দর্শনীয় স্থানসমূহ
নিজস্ব প্রতিবেদক: আলোর উৎসব কালীপুজোয় সেজে উঠেছে তিলোত্তমা। শহরের প্রাচীন মন্দির থেকে শুরু করে নজরকাড়া থিমের মণ্ডপ—সব মিলিয়ে শহরজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। কালীপুজোর রাতে দর্শনার্থীরা কোন কোন জায়গায় ভিড় জমাতে পারেন, তার একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
ঐতিহ্যবাহী মন্দিরসমূহ:
- দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দির: ১৮৫৫ সালে রানি রাসমণির প্রতিষ্ঠিত এই মন্দির কলকাতার অন্যতম প্রধান ধর্মীয় আকর্ষণ। হুগলি নদীর তীরে অবস্থিত এই মন্দিরে ভবতারিণী রূপে দেবী পূজিতা হন। কালীপুজোর রাতে আলোকসজ্জায় মন্দির চত্বর এক অপার্থিব রূপ ধারণ করে।
- কালীঘাট কালীমন্দির: ৫১টি শক্তিপীঠের অন্যতম এই প্রাচীন মন্দির কলকাতার অন্যতম প্রধান ধর্মীয় কেন্দ্র। কালীপুজোর রাতে এখানে দেবীর দর্শনের জন্য লক্ষাধিক ভক্তের সমাগম ঘটে।
- ঠনঠনিয়া কালীমন্দির: বিধান সরণির এই মন্দিরটি তার সাবেকিয়ানা ও নিষ্ঠার জন্য বিখ্যাত। শহরের ব্যস্ততার মধ্যেও এখানে এক শান্ত ও ভক্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে।
জনপ্রিয় বারোয়ারি পুজো:
- ফাটা কেষ্টর কালীপুজো: ১৯৫৭ সালে শুরু হওয়া কলেজ স্ট্রিটের এই পুজো শহরের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী বারোয়ারি পুজো। জৌলুসের পাশাপাশি এখানকার সাবেকি আচার-অনুষ্ঠান আজও অটুট।
- চেতলার ডাকাত কালীপুজো: প্রায় ৫৫০ বছরের প্রাচীন এই পুজো স্থানীয় মানুষের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতি বছর দেবীর অপরূপ সাজ দেখার জন্য বহু মানুষ ভিড় জমান।
- আলিপুর আরাধনা সমিতি: ৭৯ বছরে পদার্পণ করা এই পুজোর বিশেষত্ব হলো এখানে চামুণ্ডার আরাধনা করা হয়। নিয়ম-নিষ্ঠা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশের জন্য এই পুজো পরিচিত।
- এবিএস স্পোর্টিং ক্লাব (দক্ষিণ কলকাতা): অভিনব থিম, চোখ ধাঁধানো মণ্ডপ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য এই ক্লাবের পুজো দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম আকর্ষণ।
- দাশদ্রোণ ব্যায়াম সমিতি (নিউ টাউন): সাম্প্রতিক বছরগুলিতে থিমের অভিনবত্ব এবং সুশৃঙ্খল আয়োজনের জন্য এই পুজো দর্শনার্থীদের বিশেষ নজর কেড়েছে।
শহরের বাইরে:
কলকাতার বাইরে বারাসাতের কালীপুজোও এবছর বিশেষ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিশেষত, বারাসাতের ‘মণিকর্ণিকা ঘাট’-এর থিম এবং গঙ্গারতি দেখার সুযোগ দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।
ঐতিহ্যবাহী মন্দিরের আধ্যাত্মিক আবহ হোক কিংবা বারোয়ারি পুজোর থিম ও সৃজনশীলতা—সমগ্র শহর জুড়ে এক মিলনমেলা গড়ে উঠেছে। দর্শনার্থীরা নিজেদের পছন্দমতো এই স্থানগুলো ঘুরে দেখে কালীপুজোর আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।