৩০ নভেম্বরের মধ্যেই মিলবে বকেয়া ডিএ, সরকারি কর্মীদের জন্য বড় সুখবর!
বার্তা ডেস্কঃ
৩০ নভেম্বরের মধ্যে বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর, ক্ষোভ গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের মধ্যে
কলকাতা: দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) নিয়ে চলমান জটিলতার অবসানে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ-র অবশিষ্ট ৪ হাজার কোটি টাকা আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে মিটিয়ে দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ বাবদ মোট ১২ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ইতিমধ্যে ৮ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি ৪ হাজার কোটি টাকা দ্রুত মিটিয়ে দেওয়ার জন্য রাজ্য তহবিল থেকে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, আইন মেনে রাজ্য সরকারের অধীনস্থ সকল কর্মীকে ইতিমধ্যেই ২০ শতাংশ ডিএ প্রদান করা হয়েছে এবং আদালতের নির্দেশিকা মেনেই সরকার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে সরকারি কর্মীদের একাংশের স্বস্তির মাঝেও গ্রান্ট-ইন-এইড বা অনুদানভুক্ত কর্মীদের বঞ্চনার অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীরা এখনও বকেয়া ডিএ-র কোনো অংশ না পাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ীই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সরকারের কাছে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এবং সংশ্লিষ্ট মনিটরিং কমিটির সিদ্ধান্তই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।
এদিকে, এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন। ‘কনফেডারেশন অফ স্টেট গভঃ এমপ্লয়িজ’ ও ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’-সহ একাধিক সংগঠন সরকারি এই ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেছে। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের দোহাই দিয়ে দায় এড়াচ্ছে। তাঁর দাবি, ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বাধীন কমিটি রাজ্য সরকারের সঙ্গে বৈঠক করলেও ভুক্তভোগী কর্মচারী বা তাঁদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি। কমিটির এই ‘গড়িমসি’ ও ঢিলেঢালা মনোভাবের কারণে গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মী ও শিক্ষকরা চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।
মামলাটি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। সব পক্ষের দাবি এবং মনিটরিং কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপরই এখন গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের ভাগ্য নির্ভর করছে।