রেইকি করে ঠান্ডা মাথায় খুন! আপ্তসহায়ক খুনে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সরব শুভেন্দু
উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বুধবার রাতের এই ঘটনাকে স্রেফ অপরাধ হিসেবে না দেখে গভীর ষড়যন্ত্র এবং ‘পরিকল্পিত খুন’ হিসেবেই বর্ণনা করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, গত কয়েক দিন ধরে নিয়মিত রেইকি করার পর অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে দুষ্কৃতীরা।
পূর্বপরিকল্পিত হামলা ও নেপথ্যের কারণ
বুধবার রাতে হাসপাতাল চত্বরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানান যে, এই খুন কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। তাঁর দাবি অনুযায়ী, আততায়ীরা অন্তত দুই থেকে তিন দিন ধরে চন্দ্রনাথের গতিবিধির ওপর নজর রাখছিল। রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল (ডিজি) সিদ্ধনাথ গুপ্তের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে পুলিশও এটিকে সুপরিকল্পিত হামলা বলে মনে করছে। যদিও সরাসরি কাউকে অভিযুক্ত করেননি, তবুও এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ইঙ্গিত দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা। তিনি বলেন, “১৫ বছর ধরে রাজ্যে প্রতিহিংসার রাজনীতি চলছে।”
ঘটনার বিবরণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সারাদিন শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেই ছিলেন চন্দ্রনাথ রথ। কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া অঞ্চলে একটি বিরিয়ানির দোকানের সামনে তাঁর গাড়ি থামলে মোটরবাইকে আসা দুষ্কৃতীরা খুব কাছ থেকে হামলা চালায়। গাড়ির জানলা দিয়ে লক্ষ্য করে চালানো গুলিতে চন্দ্রনাথের শরীরে তিনটি আঘাত লাগে এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় গাড়ির চালকও গুরুতর আহত হয়েছেন।
এই ঘটনার পর থেকে রাজনৈতিক মহলে উত্তাপ বেড়েছে। শুভেন্দু অধিকারী দলীয় কর্মীদের আইন নিজের হাতে না তুলে নিয়ে শান্ত থাকার আবেদন জানিয়েছেন। তবে খড়দহ, বরাহনগর এবং বসিরহাটের সাম্প্রতিক হিংসাত্মক ঘটনাগুলোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানোর পাশাপাশি নিহতের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। বর্তমানে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে আততায়ীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।