ভোট মিটলেও মালদহে কড়া নজরদারি! নেতাদের নিরাপত্তা কি এবার কাটছাঁট হবে?
ভোটের ফল ঘোষণা হয়ে গেলেও এখনই কোনো রকম শিথিলতা দেখাতে নারাজ মালদহ জেলা প্রশাসন। নির্বাচন পরবর্তী হিংসা এবং বিশৃঙ্খলা রুখতে জেলায় ১৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার ৪১ জন হেভিওয়েট নেতা-নেত্রীর বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা নতুন করে খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া শুরু করেছে জেলা পুলিশ। বুধবার মালদহ জেলা প্রশাসনিক ভবনে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
শান্তি রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি
মালদহের জেলাশাসক রাজনবীর সিং কাপুর স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভোট ও গণনা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলেও পরবর্তী পর্যায়ে কোনো প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি বরদাস্ত করা হবে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেকোনো ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা ঘটলে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে বিক্ষিপ্ত অশান্তির ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের মনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বিজয় মিছিলকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহলদারি অব্যাহত রাখা হচ্ছে।
নিরাপত্তা বলয় নিয়ে নতুন মূল্যায়ন
বর্তমানে মালদহের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৪১ জন নেতা-নেত্রীর জন্য সরকারি পুলিশি নিরাপত্তা বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য থেকে শুরু করে সাংগঠনিক স্তরের নেতাদের জন্য ২ থেকে ৪ জন করে সশস্ত্র পুলিশ রক্ষী মোতায়েন আছে। অন্যদিকে, বিজেপি বিধায়ক ও সাংসদদের নিরাপত্তায় রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।
পুলিশ সুপার অনুপম সিং জানান, কার কতটা নিরাপত্তার প্রয়োজন রয়েছে, তা নতুন করে মূল্যায়ন (Assessment) করা হবে। পরিস্থিতির গুরুত্ব এবং বাস্তব প্রয়োজনীয়তা বিচার করেই নিরাপত্তা বহাল রাখা বা কাটছাঁটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে জেলা পুলিশ। প্রশাসনের এই পদক্ষেপের ফলে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। মূলত অহেতুক নিরাপত্তা প্রদর্শন বন্ধ করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাহিনীর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতেই এই প্রশাসনিক পর্যালোচনা শুরু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।