তীব্র দাবদাহে বদলে যাচ্ছে গ্রীষ্মের ছুটির সমীকরণ, অনলাইনে ক্লাসের ভাবনা!
দেশজুড়ে ক্রমবর্ধমান তাপপ্রবাহের দাপটে নাজেহাল জনজীবন। এপ্রিলের শেষ থেকেই দেশের একাধিক রাজ্যে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটা বৃদ্ধি পাওয়ায় কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে প্রশাসনের। এই পরিস্থিতিতে পড়ুয়াদের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি এড়াতে বিভিন্ন রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই স্কুলগুলোতে আগাম গরমের ছুটি ঘোষণা করতে শুরু করেছে। তবে কেবল ছুটিই নয়, পঠনপাঠনের ক্ষতি রুখতে এবার বিকল্প ব্যবস্থার কথাও ভাবছে সংশ্লিষ্ট মহল।
ভিন্ন রাজ্যে ভিন্ন চিত্র
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গরমের ছুটির সূচিতে বড়সড় রদবদল দেখা যাচ্ছে। গুজরাট সরকার আগামী ৪ মে থেকে টানা ৩৫ দিনের জন্য স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা চলবে ৭ জুন পর্যন্ত। অন্যদিকে, রাজধানী দিল্লিতে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ায় জারি হয়েছে হলুদ সতর্কতা। সেখানে ১১ মে থেকে প্রায় ৫০ দিনের দীর্ঘ ছুটির পরিকল্পনা রয়েছে। ওড়িশা সরকারও পিছিয়ে নেই; সেখানে ২৭ এপ্রিল থেকেই সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ে ছুটি কার্যকর করা হয়েছে। তবে পঠনপাঠন বন্ধ থাকলেও জরুরি দাপ্তরিক কাজ ও পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষাগুলো চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিকল্প পঠনপাঠন ও সম্ভাব্য প্রভাব
দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকলে সিলেবাস শেষ করা নিয়ে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা। এই সমস্যার সমাধানে সরকার কিছু বিশেষ পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছে। তীব্র গরমে সশরীরে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ‘অনলাইন ক্লাস’ অথবা রোদের তেজ কমলে ‘বিকেলের স্কুল’ বা ‘মর্নিং স্কুল’-এর মতো বিকল্প পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে নির্বাচনী আবহে অনেক বিদ্যালয়ে পঠনপাঠন ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এই প্রযুক্তিগত মাধ্যম বা সময়ের পরিবর্তন অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তীব্র দাবদাহের ফলে ডিহাইড্রেশনসহ নানা শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে শিশুরা। এই পরিস্থিতিতে ছুটির ঘোষণা শিক্ষার্থীদের সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদী শিক্ষাবর্ষের ওপর এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ডিজিটাল পরিকাঠামো ব্যবহার করে শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এখন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। দ্রুতই এই বিষয়ে চূড়ান্ত নির্দেশিকা জারি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।