পঁচিশে বৈশাখে বাংলায় নতুন সূর্যোদয়, ব্রিগেডে গেরুয়া আবহে শপথ নিতে চলেছে প্রথম বিজেপি সরকার
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভাবনীয় ও দীর্ঘ প্রতীক্ষিত অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। আগামী ৯ই মে, অর্থাৎ পঁচিশে বৈশাখের পুণ্যলগ্নে কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ গ্রহণ করতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকার। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীকে সামনে রেখে এই মেগা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে গেরুয়া শিবির কার্যত এক সুগভীর রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বার্তা দিতে চাইছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, তৃণমূলের দেওয়া ‘বহিরাগত’ তকমা ঘুচিয়ে নিজেদের বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতির প্রকৃত ধারক হিসেবে তুলে ধরতেই এই বিশেষ দিনটিকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন ও কেন্দ্রীয় তৎপরতা
সরকার গঠনের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া তদারকি করতে বৃহস্পতিবার রাতেই কলকাতায় পা রাখছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার বিকেল ৪টের সময় নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠক ডাকা হয়েছে। এই বৈঠকেই আনুষ্ঠানিকভাবে বিধানসভার দলনেতা তথা রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন করা হবে। কার মাথায় বাংলার মসনদ উঠতে চলেছে, তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তুঙ্গে। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, পঁচিশে বৈশাখ বাঙালির আবেগের দিন বলেই এই শুভ ক্ষণটিকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
ব্রিগেডে চাঁদের হাট ও সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা
৯ই মে সকাল ১০টায় আয়োজিত এই মেগা শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। এ ছাড়াও বিজেপি শাসিত দেশের ২০টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট মন্ত্রীদের উপস্থিতিতে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড কার্যত এক নক্ষত্র সমাবেশে পরিণত হবে।
নতুন সরকারের ক্যাবিনেট নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক সূত্রে খবর, অগ্নিমিত্রা পাল, দিলীপ ঘোষ, রূপা গঙ্গোপাধ্যায় এবং রুদ্রনীল ঘোষের মতো হেভিওয়েট নামগুলি সম্ভাব্য মন্ত্রী তালিকায় রয়েছে। এ ছাড়াও অভিজ্ঞ নেতা তাপস রায়কে বিধানসভার পরবর্তী স্পিকার হিসেবে দেখা যেতে পারে বলে জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ঐতিহ্যের ব্রিগেড এবং রবীন্দ্রজয়ন্তীর এই মেলবন্ধনকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি মূলত জনমানসে এক দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে চাইছে। এখন শুধু অপেক্ষা ৮ তারিখ বিকেলের, যখন আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত হবে রাজ্যের পরবর্তী প্রশাসনিক প্রধানের নাম।