লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ছাপিয়ে এবার কি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার, কবে থেকে মিলবে ৩০০০ টাকা?

দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বাংলায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটেছে। বিধানসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পথে বিজেপি। আর এই পালাবদলের সঙ্গেই বাংলার মহিলাদের মনে দানা বাঁধছে নতুন কৌতূহল। ভোটের প্রচারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় এলে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের নাম বদলে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ করা হবে এবং ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে মাসে ৩০০০ টাকা করা হবে। সরকারের এই পরিবর্তনের মুখে দাঁড়িয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে, এই বিপুল অঙ্কের আর্থিক সুবিধা কবে থেকে পাবেন মহিলারা?
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার কি তবে বন্ধ হচ্ছে?
২০২১ সাল থেকে চালু হওয়া লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প বর্তমানে বাংলার কোটি কোটি মহিলার কাছে আত্মনির্ভরতার প্রতীক। বিদায়ী সরকারের অধীনে সাধারণ শ্রেণির মহিলারা ১০০০ টাকা এবং সংরক্ষিত শ্রেণির মহিলারা ১২০০ টাকা করে পাচ্ছিলেন, যা সম্প্রতি আরও বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়েছিল। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই প্রকল্প পুরোপুরি বন্ধ হবে কি না, তা নিয়ে এখনও কোনো প্রশাসনিক নির্দেশিকা জারি হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়ে প্রকল্পটির খোলনলচে বদলে দেবে। মে মাসেও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এখনও সম্পন্ন হয়নি।
আবেদন প্রক্রিয়া ও প্রকল্প শুরুর সময়সীমা
বিজেপির পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আওতায় প্রত্যেক যোগ্য মহিলা মাসে ৩০০০ টাকা করে পাবেন। আগামী ৯ মে নতুন রাজ্য সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের অনুমান, মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেওয়ার পরেই রাজ্য মন্ত্রিসভার প্রথম কয়েকটি বৈঠকেই এই প্রকল্প অনুমোদিত হতে পারে।
প্রকল্পটি চালু হলে মে মাসের শেষ দিকে অথবা জুন মাস থেকে নতুন করে আবেদনপত্র গ্রহণ বা ফর্ম বিলি শুরু হতে পারে। তবে এর জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং নির্দিষ্ট যোগ্যতার মাপকাঠি সম্পর্কে সরকার গঠনের পরই বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন হলে রাজ্যের নারী ক্ষমতায়নে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলেই মনে করা হচ্ছে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে গ্রামীণ ও শহরতলীর অর্থনীতিতে।