প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বলি শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক, কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন শমীক
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। এই ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত প্রতিহিংসামূলক হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করে সরাসরি শাসকদলের দিকে আঙুলের নির্দেশ করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বৃহস্পতিবার বারাসত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পৌঁছে তিনি দলীয় ক্ষোভ উগরে দেন।
রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, চন্দ্রনাথ রথ কোনো সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তি। তা সত্ত্বেও তাঁকে হত্যার পেছনে গভীর রাজনৈতিক অভিসন্ধি রয়েছে বলে মনে করছে গেরুয়া শিবির। প্রধানমন্ত্রীর পশ্চিমবঙ্গ সফরের ঠিক আগে এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে বিজেপিকে কোনো বিশেষ বার্তা দেওয়া বা ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। স্থানীয় দুষ্কৃতীদের পাশাপাশি স্থানীয় শাসকদলের নেতাদের মদত ছাড়া এমন পরিকল্পিত কাজ সম্ভব নয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
শমীকের কড়া হুঁশিয়ারি ও সীমান্ত অপরাধের যোগ
বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন, “আমরা তৃণমূলের ভাষায় কথা বলতে জানি, কিন্তু বলব না।” দলের কর্মীদের সংযত থাকতে বললেও তাঁর কথায় ছিল প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বারাসত ও মধ্যমগ্রাম অঞ্চল দীর্ঘ দিন ধরে সমাজবিরোধীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। জাল নথিপত্র তৈরি থেকে শুরু করে অনুপ্রবেশকারীদের মদত দেওয়ার মতো অসামাজিক কার্যকলাপের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে এই এলাকা। এই অরাজক পরিস্থিতির কারণেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁর বিশ্বাস।
প্রভাব ও পরবর্তী পদক্ষেপ
নির্বাচন পরবর্তী অশান্তি এবং এই হত্যাকাণ্ডের জেরে রাজ্য রাজনীতিতে মেরুকরণ আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, বর্তমানে নির্বাচনী বিধি বলবৎ থাকায় তিনি রাজ্যপাল ও নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপের ওপর আস্থা রাখছেন। তবে আগামী শনিবার ব্রিগেডে বিজেপির বড় সমাবেশ এবং প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতির আগে এই ঘটনা দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। দিলীপ ঘোষের মতো অন্যান্য বিজেপি নেতারাও এই ঘটনায় সরকারের সমালোচনা করে দাবি করেছেন যে, অপরাধীদের তোষণ করার রাজনীতির কারণেই সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আজ সংকটে।