তৃণমূলের দুর্গে পদ্ম-ঝড়, সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কেও বিপ্লব দেবের ‘মাস্টারস্ট্রোক’!
পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে এক অভাবনীয় রাজনৈতিক সমীকরণের সাক্ষী থাকল দুই ২৪ পরগনা। যে জেলাগুলিকে তৃণমূল কংগ্রেসের অপরাজেয় দুর্গ বলে মনে করা হতো, সেখানেই ফাটল ধরাল বিজেপি। বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আসনগুলিতে বিজেপির এই জয় বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে এক বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই সাফল্যের নেপথ্যে মূল কারিগর হিসেবে উঠে আসছে ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা বিপ্লব দেবের নাম।
সংখ্যালঘু ভোট ও দুর্ভেদ্য দুর্গ জয়
পরিসংখ্যান বলছে, দুই ২৪ পরগনার ৪৯টি সংবেদনশীল আসনের মধ্যে ২৩টিতে সংখ্যালঘু জনসংখ্যা ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ। সাধারণত এই আসনগুলিতে তৃণমূলের একচেটিয়া আধিপত্য থাকলেও এবার ছবিটা বদলে গিয়েছে। এই ৪৯টি আসনের মধ্যে ২৬টিতেই জয়ী হয়েছে বিজেপি, যেখানে তৃণমূল থমকে গিয়েছে ২১টি আসনে। উল্লেখ্য, এই ২৬টি আসনের মধ্যে ২৫টিই বিজেপি সরাসরি তৃণমূলের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শক্তিশালী সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক থাকা সত্ত্বেও এই বিপুল ভাঙন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের চমকে দিয়েছে।
বামেদের ক্ষোভকে পুঁজি করে বিশেষ রণকৌশল
বিপ্লব দেবের এই সাফল্যের মূলে ছিল ক্যাডার-ভিত্তিক রাজনীতিকে বুঝতে পারা। ত্রিপুরায় ২৫ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটানোর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি বাংলায় বামপন্থী সমর্থকদের অসন্তোষকে হাতিয়ার করেন। দলীয় সূত্রে খবর, বিপ্লব দেব কলকাতা, যাদবপুর এবং দুই ২৪ পরগনার একাধিক প্রাক্তন বাম নেতার সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছিলেন। তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল তৃণমূল বিরোধী ভোটকে এককাট্টা করা।
তৃণমূল স্তরে যোগাযোগ ও বুথ ম্যানেজমেন্ট
বিপ্লব দেবের কৌশলের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল সরাসরি বুথ স্তরের কর্মীদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা। কেবল বড় সভা নয়, বরং নিচুতলার কর্মীদের সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগ বজায় রেখে তিনি সংগঠনকে চাঙ্গা করেছেন। আইনশৃঙ্খলার অবনতি, নারী নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে হাতিয়ার করে তিনি সাধারণ ভোটারদের পাশাপাশি বামমনস্ক কর্মীদেরও বিজেপির প্রতি আস্থাশীল করে তোলেন।
এই জয়ের ফলে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিজেপির অবস্থান যেমন শক্তিশালী হলো, তেমনই প্রমাণিত হলো যে সঠিক সাংগঠনিক কৌশল থাকলে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাতেও নির্বাচনী ফলাফল নিজেদের অনুকূলে আনা সম্ভব। বিপ্লব দেবের এই ‘ধুরন্ধর’ স্ট্র্যাটেজি আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন ধারার সূচনা করল বলে মনে করা হচ্ছে।