৯ মে শপথ নিচ্ছে নতুন সরকার, কার পকেটে কত যাবে? দেখে নিন মন্ত্রী-বিধায়কদের বেতনের হালহকিকত
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের পালা শেষ হতেই এখন সাজ সাজ রব নতুন সরকার গঠন ঘিরে। আগামী ৯ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নতুন মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথ নেওয়ার জোরালো সম্ভাবনার পাশাপাশি নতুন এই সরকারে দুই জন উপ-মুখ্যমন্ত্রীও থাকতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে। তবে ক্ষমতার এই পালাবদলের মাঝে সাধারণ মানুষের প্রবল কৌতূহল রয়েছে জনপ্রতিনিধিদের মাসিক আয় ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে।
বেতন ও ভাতার অংক যেখানে চমকে দেয়
একজন বিধায়ক বা মন্ত্রীর উপার্জন কেবল একটি নির্দিষ্ট বেতনে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় যাতায়াত খরচ, ফোন বিল এবং বিবিধ ভাতা। ২০২৩ সালের আগে পর্যন্ত রাজ্যে বিধায়কদের মূল বেতন ছিল মাত্র ১০ হাজার টাকা। সেই সময় প্রতিমন্ত্রীদের বেতন ছিল ১০ হাজার ৯০০ টাকা এবং পূর্ণমন্ত্রীদের বেতন ছিল ১১ হাজার টাকা। তবে ২০২৩ সালের মার্চ মাসে এই কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আনা হয় এবং প্রত্যেকের বেতন একলাফে ৪০ হাজার টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়। বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী, একজন বিধায়কের মূল বেতন ৫০ হাজার টাকা। একইভাবে প্রতিমন্ত্রী ও পূর্ণমন্ত্রীদের সংশোধিত বেতন দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৫০ হাজার ৯০০ এবং ৫১ হাজার টাকা।
মাস শেষে মোট আয়ের হিসাব
মূল বেতনের বাইরেও জনপ্রতিনিধিরা বড় অংকের আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকেন। বিধানসভার অধিবেশনে যোগ দেওয়া এবং বিভিন্ন সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য তাঁরা আলাদা দৈনিক ভাতা পান। সব মিলিয়ে বর্তমানে একজন বিধায়কের মাসিক আয় দাঁড়ায় প্রায় ১ লক্ষ ২১ হাজার টাকা। অন্যদিকে, রাজ্যের পূর্ণমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং বিরোধী দলনেতার ক্ষেত্রে এই পরিমাণটি আরও বেশি। বেতন ও সব ধরণের ভাতা মিলিয়ে প্রতি মাসে তাঁরা প্রায় দেড় লক্ষ টাকা হাতে পান।
অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা ও প্রভাব
বেতন ছাড়াও বিধায়করা ব্যক্তিগত সচিব রাখা এবং বাড়ি ভাড়ার জন্য নির্দিষ্ট ভাতা পেয়ে থাকেন। যদিও এই খরচটি শুরুতে নিজেদের বহন করতে হয়, তবে পরবর্তীতে বিধানসভা সচিবালয় থেকে তা মিটিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচও সরকারিভাবে পাওয়ার বিধান রয়েছে। বেতন ও ভাতার এই বিশাল উল্লম্ফন মূলত জনপ্রতিনিধিদের কাজের স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং প্রশাসনিক কাজে গতিশীলতা আনার লক্ষ্যেই করা হয়েছে। নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এই বিশাল অংকের সরকারি ব্যয়ের বিপরীতে জনসেবার মান কতটা বৃদ্ধি পায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।