‘বন্ধু’ পাকিস্তানই খেলল ডাবল গেম? ইরানি যুদ্ধবিমান ঘিরে উঠছে ট্রাম্পকে নিয়ে প্রশ্ন

ইরান-আমেরিকা সংঘাতের আবহে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। সিবিএস নিউজের (CBS News) একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতির চেষ্টা করছিলেন, সেই সময় পাকিস্তান গোপনে তাদের রাওয়ালপিন্ডির নূর খান বিমানঘাঁটিতে ইরানি সামরিক বিমানগুলিকে আশ্রয় দিয়েছিল।

এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই আন্তর্জাতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিশেষ করে আমেরিকার জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রতিবেদনের মূল তথ্যসমূহ:

  • বিমানের লুকোচুরি: রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন হামলা থেকে নিজেদের অবশিষ্ট আকাশপথের শক্তি রক্ষা করতে ইরান তাদের বেশ কিছু সামরিক বিমান পাকিস্তানে সরিয়ে নেয়। এর মধ্যে ইরানি বিমান বাহিনীর একটি আরসি-১৩০ (RC-130) বিমানও ছিল।
  • ট্রাম্পের অস্বস্তি: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই পাকিস্তানের ওপর আস্থা রেখেছিলেন এবং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইসলামাবাদের প্রশংসা করেছিলেন। কিন্তু রিপোর্টটি সত্য হলে এটি ট্রাম্পের বিদেশনীতির জন্য চরম অবমাননাকর হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
  • মার্কিন সিনেটরের প্রতিক্রিয়া: প্রভাবশালী মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছেন। তিনি জানিয়েছেন, যদি রিপোর্টটি সত্যি হয়, তবে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।

পাকিস্তানের অবস্থান ও পাল্টা যুক্তি

পাকিস্তান এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। তাঁদের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের দাবি: ১. নূর খান বিমানঘাঁটিটি একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত। এখানে গোপনীয়তা বজায় রাখা প্রযুক্তিগতভাবে অসম্ভব। ২. পাকিস্তান এই রিপোর্টকে বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে।


বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব

এই রিপোর্টটি এমন এক সময়ে এল যখন:

  • ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধবিরতি হলেও উত্তজনা প্রশমিত হয়নি।
  • আমেরিকা ইতিমধ্যে জার্মানি থেকে প্রায় ৫০০০ সেনা সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা ইউরোপীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলছে।

বিশেষজ্ঞদের মত: যদি স্যাটেলাইট বা অন্য কোনো প্রমাণ মারফত এই তথ্যের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে আমেরিকার পক্ষ থেকে পাকিস্তানের ওপর নতুন করে কঠোর অর্থনৈতিক ও সামরিক নিষেধাজ্ঞা নেমে আসতে পারে। মধ্যস্থতাকারীর আড়ালে পাকিস্তানের এই ‘ডবল গেম’ দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *