মেয়েদের পড়াশোনা অপ্রয়োজনীয়, নারী শিক্ষা নিয়ে বিহারের শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যে চরম বিতর্ক
কেন্দ্রীয় সরকারের ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ স্লোগান যখন দেশজুড়ে নারী শিক্ষার প্রসারে জোর দিচ্ছে, ঠিক তখনই বিহারের নবনিযুক্ত শিক্ষামন্ত্রী মিথিলেশ তিওয়ারির এক বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিজেপির এই মন্ত্রী দাবি করেছেন, মেয়েদের লেখাপড়া করার কোনো প্রয়োজন নেই এবং তাঁদের চার দেওয়ালের মধ্যে থাকাই শ্রেয়। শিক্ষামন্ত্রীর মতো দায়িত্বশীল পদে থেকে এমন মন্তব্য নারী অধিকার ও শিক্ষার পথে অন্তরায় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিতর্কিত মন্তব্য ও মন্ত্রীর যুক্তি
গোপালগঞ্জ জেলার বৈকুণ্ঠপুর কেন্দ্রের বিধায়ক মিথিলেশ তিওয়ারি জানান, মেয়েদের পড়াশোনার বদলে ঘরের কাজে মনোযোগ দেওয়া উচিত। তাঁর মতে, নারীরা ঘরের শক্তি এবং সমৃদ্ধির ভিত্তি, তাই তাঁদের রাস্তায় নামার বা প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। অবাক করার মতো বিষয় হলো, রাজনীতিতে আসার আগে মিথিলেশ নিজে একজন শিক্ষক ছিলেন এবং দীর্ঘ সময় পাটনায় কোচিং সেন্টার চালিয়েছেন। একজন শিক্ষিত ও প্রাক্তন শিক্ষকের মুখ থেকে এমন লিঙ্গবৈষম্যমূলক মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই জনমানসে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
সংবিধান লঙ্ঘন ও তীব্র প্রতিবাদ
মন্ত্রীর এই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই নিন্দার ঝড় উঠেছে। নেটিজেনরা ভারতীয় সংবিধানের ২১এ ধারার কথা উল্লেখ করে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, লিঙ্গ নির্বিশেষে ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রত্যেকের শিক্ষার অধিকার মৌলিক। বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকেও এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বলা হয়েছে, এ ধরনের মানসিকতা সমাজকে কয়েক দশক পিছিয়ে দেবে। যদিও মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, তাঁর বক্তব্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে, তবে নারী শিক্ষার প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে তাঁর তোলা প্রশ্ন বর্তমানে বিহার তথা জাতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রধান বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।