প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই মাস্টারস্ট্রোক মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর
বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর নবান্নে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই একগুচ্ছ যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। পাঁচজন নবনির্বাচিত মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার পর এই ঘোষণাগুলি সামনে আনা হয়। নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাঁর সরকার দলমত নির্বিশেষে সকলের উন্নয়নের জন্য এবং একটি ‘ডবল ইঞ্জিন’ মডেল অনুসরণ করে কাজ করবে। নির্বাচনের সাফল্যের জন্য ভোটকর্মী থেকে শুরু করে পুলিশ প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি এক নতুন প্রশাসনিক অধ্যায়ের সূচনা করেন।
কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও প্রশাসনিক সংস্কার
মুখ্যমন্ত্রীর নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো রাজ্যে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলোর পূর্ণাঙ্গ সংযুক্তি। এখন থেকে পশ্চিমবঙ্গ ‘বেটি বাঁচাও’, ‘বিশ্বকর্মা যোজনা’ এবং ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর মতো প্রকল্পের আওতাভুক্ত হবে। এছাড়া প্রশাসনিক স্তরে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়াতে আইপিএস ও আইএএস কর্মকর্তাদের কেন্দ্রীয় ট্রেনিংয়ের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আইনি সংস্কারের ক্ষেত্রেও বড় পদক্ষেপ নিয়ে তিনি জানিয়েছেন, আজ থেকেই রাজ্যে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ কার্যকর করা হচ্ছে। পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তার স্বার্থে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-কে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
চাকরিপ্রার্থীদের স্বস্তি ও সামাজিক সুরক্ষা
রাজ্যের যুবসমাজের জন্য বড় ঘোষণা করে সরকারি চাকরিতে আবেদনের ঊর্ধ্বসীমা ৫ বছর বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন ক্যাবিনেট। একইসঙ্গে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, পূর্বতন সরকারের চালু থাকা কোনো জনপ্রিয় সামাজিক প্রকল্প যেমন ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বা ‘যুবসাথী’ বন্ধ করা হবে না। বরং সাধারণ মানুষ আরও নতুন সুবিধা পাবেন বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মানবিক দিক বিবেচনা করে রাজনৈতিক সহিংসতায় প্রাণ হারানো ৩২১ জন বিজেপি কর্মীর পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণাও করেছে এই নতুন মন্ত্রিসভা। এই পদক্ষেপগুলি রাজ্যে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।