সুজিতের পর এবার কি দেবরাজ, নিয়োগ দুর্নীতিতে বিধায়ক তরুণজ্যোতির বিস্ফোরক হুঁশিয়ারি
রাজ্যের পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর গ্রেফতারির পর নতুন করে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। সোমবার রাতে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) সুজিত বসুকে হেফাজতে নিতেই শোরগোল পড়ে যায় রাজনৈতিক মহলে। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার পরবর্তী লক্ষ্য কে হতে পারেন, তা নিয়ে বিস্ফোরক ইঙ্গিত দিলেন রাজারহাট-গোপালপুরের বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। তিনি সরাসরি নাম তুলে ধরে দাবি করেছেন, সুজিত বসুর পর এবার গ্রেফতারির তালিকায় রয়েছেন স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা দেবরাজ চক্রবর্তী।
দুর্নীতির শিকড় ও তদন্তের গতিপ্রকৃতি
২০২৩ সালে অয়ন শীলকে গ্রেফতারের পর পুরনিয়োগ দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য ইডির হাতে আসে। তদন্তকারীদের দাবি, সল্টলেক সেক্টর ফাইভে সুজিত বসুর ছেলের রেস্তোরাঁটি কেবল নামমাত্র চলত; আদতে সেটিকে কালো টাকা সাদা করার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হতো। যথাযথ পরিকাঠামো ছাড়াই একটি রেস্তোরাঁ কীভাবে চলছিল, তা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর সদুত্তর না মেলায় মন্ত্রীকে গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় সংস্থা। একই মামলায় রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষকেও তলব করা হয়েছিল, যদিও অসুস্থতার কারণে তিনি হাজিরা এড়ান।
প্রভাব ও রাজনৈতিক সংঘাত
সুজিত বসুর গ্রেফতারিকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে বিরোধী শিবির। বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি একটি ভিডিও বার্তায় কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, এটি কেবল শুরু। তাঁর মতে, দক্ষিণ দমদম বা রাজারহাট-গোপালপুর নয়, রাজ্যের প্রতিটি পুরসভায় যারা নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত, তাদের প্রত্যেকের পরিণতি হবে জেল। দেবরাজ চক্রবর্তীর নাম উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, দুর্নীতির লড়াই ততক্ষণ চলবে যতক্ষণ না শেষ অভিযুক্ত শ্রীঘরে যাচ্ছে। এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতিতে যেমন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তেমনি আগামী দিনে অন্যান্য পুরসভার জনপ্রতিনিধিদের ওপরও কেন্দ্রীয় তদন্তের চাপ বাড়ার সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠেছে।