১০০ দিনের কাজে স্বচ্ছতা আনতে কড়া পদক্ষেপ, ভুয়ো উপভোক্তা চিহ্নিত করার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে বড়সড় সংস্কারের পথে হাঁটল বিজেপি সরকার। সোমবার নবান্নে আয়োজিত গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ১০০ দিনের কাজের টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে। প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা প্রকৃতপক্ষে বৈধ কি না, তা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ২০২১ সাল থেকে এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে রাজ্যে যে দীর্ঘকালীন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলছে, এই নির্দেশের ফলে তাতে নতুন মাত্রা যোগ হলো।
ভুয়ো জব কার্ড রুখতে বিশেষ নজরদারি
পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে ১০০ দিনের কাজের টাকা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সংঘাত চরমে পৌঁছেছিল। ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে দুর্নীতির অভিযোগে এই প্রকল্পের বরাদ্দ অর্থ স্থগিত করে দিয়েছিল কেন্দ্র। বিজেপির পক্ষ থেকে বারবার অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে, রাজ্যে প্রচুর সংখ্যক ভুয়ো জব কার্ড তৈরি করে সরকারি অর্থ নয়ছয় করা হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে এ দিনের ক্যাবিনেট বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “১০০ দিনের কাজের টাকা যাঁরা পাচ্ছেন, তাঁরা কতটা বৈধ তা জেনে নিন। অনেকেই আছেন যারা কাজ না করে কেবল জব কার্ড বানিয়ে টাকা তুলছেন।” মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার পর মনে করা হচ্ছে, প্রতিটি ব্লকে উপভোক্তাদের তালিকা পুনরায় যাচাই করার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
তদন্ত ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে আদতে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে বড় ধরনের শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে। এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ‘কর্মশ্রী’ প্রকল্পের মাধ্যমে নিজস্ব তহবিল থেকে বকেয়া মেটানোর উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে বর্তমান বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেই স্পষ্ট করে দিল যে, প্রকৃত শ্রমিকরা যাতে বঞ্চিত না হন এবং কোনও অস্বচ্ছতা না থাকে, সেদিকেই তাদের মূল লক্ষ্য। ক্যাবিনেটের এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং মনে করা হচ্ছে, ভুয়ো জব কার্ডের মাধ্যমে যারা বেআইনিভাবে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এর ফলে প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিতকরণ প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।