সুজিতের পর নজরে রথীন, কেন ভোটের আগে পা বাড়ায়নি কেন্দ্রীয় সংস্থা?
পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর গ্রেফতারির পর এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—তদন্তে এই দীর্ঘসূত্রিতা কেন? প্রায় আড়াই বছর আগে তল্লাশি চালিয়ে নথিপত্র হাতে পেলেও কেন ভোটের আগে গ্রেফতার করা হলো না তাঁকে? অবশেষে সোমবার দীর্ঘ ১০ ঘণ্টা জেরার পর এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তাঁকে হেফাজতে নিতেই প্রকাশ্যে আসছে তদন্তকারীদের বিশেষ ‘কৌশলগত’ অবস্থান।
গ্রেফতারিতে বিলম্ব ও ইডির কৌশল
ইডি সূত্রে খবর, ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের আগেই সুজিত বসুর লেক টাউনের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের ঠিক আগে তাঁকে গ্রেফতার করলে তিনি রাজনৈতিক ‘সহানুভূতি’ কুড়োনোর সুযোগ পেতে পারতেন, যা তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারত। সেই কৌশলগত কারণেই তদন্তকারী সংস্থা ভোটের সময় সংযত ছিল। ভোট মিটতেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয় তাঁকে। তদন্তকারীদের দাবি, জেরার সময় সুজিত বসু একাধিক প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি এবং তদন্তে অসহযোগিতা করেছেন। এর ফলে তাঁকে গ্রেফতার করে ১০ দিনের হেফাজত চেয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
পরবর্তী লক্ষ্য প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী ও অন্যান্য পুর-চেয়ারম্যান
সুজিত বসুর পর এখন তদন্তের সব আলো গিয়ে পড়েছে মধ্যমগ্রামের বিধায়ক তথা প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষের ওপর। ইতিপূর্বে একাধিকবার তাঁকে তলব করা হলেও ভোট প্রচারের দোহাই দিয়ে তিনি হাজিরা এড়িয়ে গেছেন। ইডি সূত্রে ইঙ্গিত, খুব শীঘ্রই তাঁকে পুনরায় জেরার জন্য ডাকা হবে। শুধু রথীন ঘোষই নন, উত্তর ২৪ পরগনা জেলার একাধিক পুরসভার চেয়ারম্যানও এখন ইডির আতসকাঁচের নিচে রয়েছেন। ফ্ল্যাটের বিনিময়ে চাকরি বা করোনাকালে রেস্তোরাঁয় কোটি কোটি টাকা জমা করার মতো চাঞ্চল্যকর অভিযোগগুলো এখন তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দু।
দুর্নীতি দমনে নতুন সরকারের কড়া অবস্থান
রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতি ইস্যুতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি, কেবল পুর দুর্নীতি নয়, গরু ও কয়লা পাচার মামলাতেও নতুন করে তদন্তের গতি বাড়ানো হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, দুর্নীতিগ্রস্তদের রেহাই না দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভা। প্রথম দিন থেকেই প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রেখে জনমানসে আস্থা তৈরি করাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। ওদিকে দলীয় কর্মীদের মৃত্যুতে সরব হয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, যা রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।