‘ভাই-বোনেদের কল্যাণই অগ্রাধিকার’, শুভেন্দুর সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিয়ে বাংলায় পোস্ট প্রধানমন্ত্রীর
নবান্নে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই একগুচ্ছ ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিয়েছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের প্রশাসনিক তৎপরতায় এই আমূল পরিবর্তন দেখে দিল্লি থেকে দরাজ শংসাপত্র পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোমবার রাতে শুভেন্দু অধিকারীর গৃহীত পদক্ষেপগুলোকে সাধুবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ সরাসরি বাংলায় পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর এই বার্তার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, এবার ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের হাত ধরেই উন্নয়নের পথে দৌড়বে পশ্চিমবঙ্গ।
আয়ুষ্মান ভারত ও জনকল্যাণে মোদীর দরাজ সার্টিফিকেট
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নবান্নে তাঁর প্রথম দিনের কাজের খতিয়ান তুলে ধরার পর প্রধানমন্ত্রী সেটি শেয়ার করে লেখেন, “পশ্চিমবঙ্গে আমার ভাই-বোনেদের কল্যাণই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।” দীর্ঘ টালবাহানা কাটিয়ে অবশেষে বাংলায় ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প চালু হওয়া নিয়ে বিশেষ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর মতে, এর ফলে রাজ্যের মানুষ বিশ্বের বৃহত্তম স্বাস্থ্য পরিষেবার সুযোগ পাবেন, যা উন্নত ও সুলভ চিকিৎসা নিশ্চিত করবে। মোদী আরও স্পষ্ট করেছেন যে, ডবল ইঞ্জিন সরকার আসায় এখন থেকে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলোর রূপায়ণে বাংলায় আর কোনও বাধা থাকবে না।
শুভেন্দুর ‘ছয় ল্যান্ডমার্ক’ সিদ্ধান্ত
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম দিনেই শুভেন্দু অধিকারী যে ছ’টি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাকে বাংলার ‘হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারের’ লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে:
- স্বাস্থ্য ও বিমা: কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ উদ্যোগে আয়ুষ্মান ভারত ও প্রধানমন্ত্রী ফাসল বিমা যোজনার পূর্ণ রূপায়ণ।
- সীমান্ত সুরক্ষা: জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বিএসএফ-কে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়ার জন্য জমি হস্তান্তর।
- চাকরিতে বয়সের ছাড়: নিয়োগ দুর্নীতির জটে ক্ষতিগ্রস্ত প্রার্থীদের কথা ভেবে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৫ বছর বৃদ্ধি।
- প্রশাসনিক সংস্কার: রাজ্যে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) কার্যকর করা এবং জাতীয় আদমশুমারিতে সবুজ সংকেত।
- শহিদ সম্মান: গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে প্রাণ হারানো ৩২১টি পরিবারের দায়িত্ব গ্রহণ।
- সাশ্রয়ী জ্বালানি: উজ্জ্বলা ৩ এবং পিএম বিশ্বকর্মার মতো প্রকল্পগুলো দ্রুত কার্যকর করা।
নতুন মন্ত্রিসভা ও কঠোর বার্তা
সোমবার মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের পর দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল ও নিশীথ প্রামাণিকদের মধ্যে দফতর বণ্টনও সেরে ফেলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক আধিকারিক ও পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই সরকার কোনও নির্দিষ্ট দলের নয়, বরং সাধারণ মানুষের জন্য পরিচালিত হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই অকুণ্ঠ সমর্থন নতুন সরকারের আত্মবিশ্বাস যেমন বাড়িয়েছে, তেমনি রাজ্যের সাধারণ মানুষের মনেও কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলোর সুবিধা পাওয়া নিয়ে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।