প্রসাশনে বড়সড় রদবদল, ২৩২ জন পুনর্নিয়োগ পাওয়া আধিকারিককে একযোগে ছাঁটাই করল নবান্ন
রাজ্য প্রশাসনে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধারা ভেঙে এক আমূল পরিবর্তনের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের সিদ্ধান্তের রেশ ধরে মঙ্গলবার নবান্ন থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশিকায় গত এক দশকে অবসরের পর পুনর্নিয়োগ বা চুক্তিতে কর্মরত ২৩২ জন শীর্ষ আধিকারিকের নাম উল্লেখ করে তাঁদের অবিলম্বে কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। তালিকায় অর্থ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও শ্রম দফতরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের আইএএস, আইপিএস এবং ডব্লিউবিসিএস পর্যায়ের আধিকারিকরা রয়েছেন।
প্রশাসনিক কাঠামোয় শুদ্ধিকরণ অভিযান
নবান্নের জারি করা এই নির্দেশিকায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ৬০ বছর বয়স পার করার পর যাঁরা পূর্ববর্তী সরকারের আমলে বিশেষ মেয়াদে নিয়োগ পেয়েছিলেন, তাঁদের পরিষেবা আর গ্রহণ করবে না বর্তমান সরকার। এই সিদ্ধান্তের আওতায় শুধুমাত্র বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকরাই নন, বরং সরকারি নিগম, অ-সংবিধিবদ্ধ বোর্ড এবং জনকল্যাণমূলক বোর্ডের চেয়ারম্যান ও ডিরেক্টর পদে থাকা মনোনীত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। নবান্নের পক্ষ থেকে প্রতিটি দফতরের সচিবদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হয়।
পরিবর্তনের কারণ ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিগত সরকারের তৈরি করা নির্দিষ্ট প্রশাসনিক বলয় বা ‘ইকোসিস্টেম’ ভেঙে ফেলতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী এর আগে একাধিকবার অভিযোগ করেছিলেন যে, অবসরের পর পুনর্নিয়োগ পাওয়া আধিকারিকদের একটি অংশকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই গণ-ছাঁটাইয়ের ফলে প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে যেমন দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটবে, তেমনই নতুন ও তরুণ আধিকারিকদের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসার পথ প্রশস্ত হবে। মূলত স্বচ্ছতা ফেরানো এবং আমলাতন্ত্রকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করাই এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের প্রধান লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।