২ লাখের গণ্ডি ছাড়াবে সোনা! আমদানি শুল্ক একলাফে ১৫ শতাংশ করল সরকার
দেশের বিদেশি মুদ্রা ভাণ্ডার রক্ষা এবং বাণিজ্য ঘাটতি সামাল দিতে সোনা ও রুপোর ওপর আমদানি শুল্ক একধাক্কায় ১৫ শতাংশে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্র। সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপের ফলে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য সোনা ও রুপো কেনা এখন আক্ষরিক অর্থেই বিলাসিতায় পরিণত হতে চলেছে। আগে এই শুল্কের হার ছিল মাত্র ৬ শতাংশ। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রতি ভরি সোনার দাম দুই লাখ টাকার সীমা ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।
শুল্ক বৃদ্ধির নেপথ্যে কারণ ও নতুন হিসাব কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোনা-রুপোর ওপর বর্তমানে ১০ শতাংশ বেসিক কাস্টম ডিউটি এবং ৫ শতাংশ কৃষি পরিকাঠামো ও উন্নয়ন সেস (AIDC) আরোপ করা হয়েছে। ফলে কার্যকর আমদানি শুল্কের হার ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ শতাংশে। মূলত দেশের ফরেন এক্সচেঞ্জ রিজার্ভ বা বিদেশি মুদ্রার মজুত হ্রাস পাওয়া এবং ডলারের তুলনায় ভারতীয় মুদ্রার ধারাবাহিক দরপতন রুখতেই এই সিদ্ধান্ত। ভারত তার বার্ষিক চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশ সোনাই বিদেশ থেকে আমদানি করে, যার ফলে বিপুল পরিমাণ ডলার দেশের বাইরে চলে যায়। এই আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে আনাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
বাজার ও সাধারণ ক্রেতার ওপর প্রভাব আমদানি শুল্কের এই নজিরবিহীন বৃদ্ধিতে খুচরো বাজারে সোনার দাম আকাশছোঁয়া হতে শুরু করেছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেট প্রতি গ্রাম সোনার দাম যেখানে ১৪ হাজার টাকার আশেপাশে ছিল, তা এখন ২০ হাজার টাকার গণ্ডি পার করার পথে। এর ফলে প্রতি ১০ গ্রাম বা এক ভরি সোনার দাম খুব দ্রুত ২ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাবে। ইন্ডিয়া বুলিয়ান অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের মতে, সরকারের এই অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্তে গহনার চাহিদায় ব্যাপক ধস নামতে পারে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও দেশবাসীকে আগামী এক বছর সোনা কেনা এবং বিদেশে গন্তব্য বিবাহ (ডেস্টিনেশন ওয়েডিং) থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
চোরাচালান বৃদ্ধির আশঙ্কা বিশেষজ্ঞ ও শিল্পের সাথে যুক্ত আধিকারিকরা মনে করছেন, বৈধ পথে সোনা আমদানির খরচ অত্যাধিক বেড়ে যাওয়ায় দেশে সোনা ও রুপোর চোরাচালান বা স্মাগলিং বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবল ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। শুল্কের হারের এই বিশাল ব্যবধান অসাধু ব্যবসায়ীদের অবৈধ পথে সোনা আনায় উৎসাহিত করতে পারে। ফলে একদিকে যেমন গহনা শিল্পের সাথে যুক্ত কারিগর ও ব্যবসায়ীরা সংকটে পড়বেন, অন্যদিকে চোরাচালান রোধ করাও প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।