মেসিকে ঘিরে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা, এবার অরুপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ শতদ্রুর
কলকাতার ফুটবল ইতিহাসে গত ১৩ ডিসেম্বর ছিল এক কালো দিন। দীর্ঘ ১৪ বছর পর জাদুকর লিওনেল মেসিকে হাতের নাগালে পেয়েও সল্টলেক যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে যে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক শতদ্রু দত্ত। জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পরপরই তিনি প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরুপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে দাবি করেছেন, ব্যক্তিগত প্রভাব খাটানো এবং অহেতুক হস্তক্ষেপের কারণেই ভেস্তে গিয়েছিল সেই মেগা ইভেন্ট।
শতদ্রুর অভিযোগ অনুযায়ী, অনুষ্ঠানের আগে থেকেই অরুপ বিশ্বাস তাঁর কাছে বিপুল পরিমাণ টিকিট এবং অ্যাক্সেস কার্ডের দাবি করেছিলেন। এমনকি আয়োজকদের তোয়াক্কা না করেই ‘মাঠ তো আমার’—এমন দম্ভোক্তি করে মাঠে প্রবেশ করেন তিনি। মেসির মতো বিশ্বজয়ী তারকার ব্যক্তিগত পরিসর লঙ্ঘন করে তাঁর গায়ে হাত দিয়ে ছবি তোলা বা পরিবারের সদস্যদের সেখানে ডেকে আনা ছিল অত্যন্ত অশোভনীয়। শতদ্রুর দাবি, এই অব্যবস্থাপনার দায় তাঁর ওপর চাপিয়ে তাঁকে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে।
বিপর্যয়ের মুখে যুবভারতী ও আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি
সেই দিন মাঠে উপস্থিত প্রভাবশালী ও বিপুল সংখ্যক মানুষের চাপে বিরক্ত হয়ে মেসি মাঠ ছাড়লে গ্যালারিতে তাণ্ডব শুরু করেন সমর্থকরা। গোলপোস্টের জাল ছেঁড়া থেকে শুরু করে মাঠের কার্পেট নষ্ট করার মতো ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া শতদ্রু দত্ত এখন আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রভাবশালীদের অন্যায় আবদারের শিকার হয়ে তাঁকে জেল খাটতে হয়েছে এবং এর বিচার চেয়ে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হবেন।
তদন্তের পথে নয়া প্রশাসন
রাজ্যের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এই ঘটনায় নতুন মোড় এসেছে। বর্তমান ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক জানিয়েছেন, গত ডিসেম্বরের সেই কলঙ্কিত ‘মেসিকাণ্ডের’ ফাইল পুনরায় খোলা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, আগের প্রশাসনের দুর্নীতির কারণে ফুটবলের যে ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণ করার চেষ্টা চালানো হবে।
২০১১ সালে যুবভারতীতে মেসির প্রথম সফরের সেই স্নিগ্ধ স্মৃতির বিপরীতে গত বছরের এই ঘটনা বাংলার ফুটবল আবেগকে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে। দর্শকরা চড়া দামে টিকিট কেটেও খেলা দেখা তো দূর, চরম বিশৃঙ্খলার সাক্ষী হয়েছেন। এখন নতুন করে তদন্ত শুরু হওয়ায় সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের মনে প্রশ্ন জেগেছে, তবে কি এবার দোষীরা শাস্তি পাবেন এবং টিকিটের অর্থের কি কোনো সুরাহা হবে? সময়ের সাথে সাথেই হয়তো মিলবে এই উত্তর।