অযোগ্য প্রার্থীদের বেতন ফেরাতে কড়া পদক্ষেপ শুভেন্দু সরকারের

স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির দায়ে চাকরি হারানো ‘অযোগ্য’ প্রার্থীদের জন্য চরম দুঃসংবাদ। আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্যের বর্তমান সরকার। দুর্নীতি ও কারচুপির মাধ্যমে চাকরি পাওয়া কয়েক হাজার প্রার্থীকে তাঁদের সম্পূর্ণ বেতন রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে শিক্ষা দফতর।

বেতন ফেরাতে জেলাশাসকদের জরুরি চিঠি

রাজ্যের প্রশাসনিক পালাবদলের পর থেকেই নিয়োগ দুর্নীতির বকেয়া মামলাগুলো নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়। মঙ্গলবার শিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে প্রতিটি জেলার জেলাশাসকদের কাছে একটি জরুরি চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, অযোগ্য প্রার্থীদের তালিকা যাচাই করে তাঁদের প্রাপ্ত বেতন ফেরতের দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। একইসঙ্গে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ‘কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট’ জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পূর্বতন সরকারের আমলে এই বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি হলেও তা কার্যকর করার ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রগতি ছিল না, যা এবার শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

আইনি বাধ্যবাধকতা ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

কলকাতা হাইকোর্ট ও পরবর্তীতে দেশের শীর্ষ আদালত সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল, ওএমআর শিট জালিয়াতি বা র‍্যাঙ্ক জাম্পের মতো অনিয়ম করে যাঁরা চাকরি পেয়েছেন, তাঁদের বেতন ফেরত দিতে হবে। হাইকোর্টের রায়ে ১২ শতাংশ সুদে এই টাকা ফেরানোর কথা বলা হলেও সুপ্রিম কোর্ট শুধুমাত্র মানবিক কারণে বিশেষ সক্ষম ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা বজায় রেখেছে। আইনজীবী ফিরদৌস শামিমের মতে, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু না হওয়ায় নতুন করে আবেদন জানানো হয়েছিল। অন্যদিকে, বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বিষয়টিকে আইনি বাধ্যবাধকতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

সরকারের এই কঠোর অবস্থানের ফলে কয়েক হাজার প্রার্থীর ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হতে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নিয়োগ দুর্নীতি নির্মূল করার এবং স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার একটি শক্তিশালী বার্তা দিতে চাইছে বর্তমান রাজ্য প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *