মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম বিধানসভা সফর
আজ বুধবার এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে চলেছে রাজ্য বিধানসভা। বিরোধী দলনেতার ভূমিকা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আজই প্রথমবার বিধানসভার চৌকাঠে পা রাখবেন শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভা চত্বরে তাঁকে বর্ণাঢ্য ‘গার্ড অফ অনার’ প্রদানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হবে। গত শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের প্রকাশ্য জনসভায় রাজ্যপাল আর এন রবির উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এটিই তাঁর প্রথম সংসদীয় সফর।
বিধানসভার কর্মসূচি ও ধর্মীয় আচার
বিধানসভায় প্রবেশের পর মুখ্যমন্ত্রী প্রথমেই ভারতীয় সংবিধানের রচয়িতা বি আর আম্বেদকরের মূর্তিতে মাল্যদান ও শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এরপর তিনি তাঁর জন্য নির্ধারিত কক্ষে এক বিশেষ পূজায় অংশ নেবেন। বেলা ১১টায় প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়ের কাছে ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন শুভেন্দু অধিকারী। পরবর্তীতে তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্য এবং নবনির্বাচিত অন্যান্য বিধায়কদের পর্যায়ক্রমে শপথবাক্য পাঠ করানো হবে।
দুই দিনে ২৯০ বিধায়কের শপথ
নির্বাচন কমিশনের তথ্য ও সংসদীয় রীতি অনুযায়ী, এবারের বিধানসভায় মোট ২৯০ জন নবনির্বাচিত বিধায়কের শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে লোকভবনে প্রোটেম স্পিকার হিসেবে শপথ নিয়েছেন প্রবীণ নেতা তাপস রায়। আজ বুধবার প্রথমার্ধে উত্তরবঙ্গ ও মুর্শিদাবাদের এবং দ্বিতীয়ার্ধে নদিয়া ও দুই ২৪ পরগনার বিধায়করা শপথ নেবেন। বাকি জেলাগুলোর বিধায়কদের শপথগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার।
নতুন সরকারের এই পথচলা রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিরোধীদের কড়া সমালোচনা ও রাজনৈতিক সংঘাতের আবহে শুভেন্দু অধিকারীর এই সংসদীয় নেতৃত্ব আগামী দিনগুলোতে বিধানসভার অধিবেশনে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষত, দুই দফায় জয়ী হওয়ার কারণে এবং বর্তমান পরিস্থিতির নিরিখে এই মেগা শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।