বিদায় নিলেন ময়দানের মহীরুহ টুটু বোস, বুধবার কেওড়াতলায় শেষকৃত্য

ভারতীয় ক্রীড়া প্রশাসন ও সংবাদ জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন ঘটল। মঙ্গলবার গভীর রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন স্বপনসাধন বোস, যিনি ময়দান ও ঘনিষ্ঠ মহলে ‘টুটু বোস’ নামেই সমধিক পরিচিত ছিলেন। তাঁর প্রয়াণে কলকাতার ক্রীড়া ও রাজনৈতিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টা নাগাদ কেওড়াতলা মহাশ্মশানে এই বর্ষীয়ান সংগঠকের শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

শ্রদ্ধা ও শেষ বিদায়ের প্রস্তুতি

পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে, বুধবার সকাল থেকেই শুরু হবে তাঁর শেষ যাত্রার প্রক্রিয়া। সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে ১০টা পর্যন্ত টুটু বোসের নশ্বর দেহ শায়িত থাকবে তাঁর বালিগঞ্জের বাসভবনে। এরপর একে একে তাঁর কর্মক্ষেত্র এবং প্রিয় ক্লাব প্রাঙ্গণে নিয়ে যাওয়া হবে দেহ। সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হবে ভবানীপুর ক্লাব ও সংবাদ প্রতিদিন-এর সদর দপ্তরে। সেখান থেকে বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে তাঁর দেহ পৌঁছাবে প্রিয় প্রাণ মোহনবাগান ক্লাব তাঁবুতে। সেখানে দীর্ঘক্ষণ শায়িত রাখা হবে দেহ, যাতে অগণিত অনুরাগী ও ক্লাব সদস্যরা তাঁদের প্রিয় অভিভাবককে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারেন।

ক্রীড়া ও রাজনীতিতে অপূরণীয় শূন্যতা

টুটু বোসের প্রয়াণকে ভারতীয় ক্রীড়া প্রশাসনের একটি যুগের অবসান হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্ট মহল। মোহনবাগান ক্লাবের দীর্ঘদিনের সভাপতি হিসেবে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর নেতৃত্বেই মোহনবাগান আধুনিক ফুটবলের পেশাদারিত্বের সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিয়েছিল। রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে তাঁর বন্ধুত্বের পরিধি ছিল বিশাল। তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এবং বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব দিব্যেন্দু অধিকারী তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে শোকবার্তা দিয়েছেন।

ময়দানের বিশ্লেষকদের মতে, টুটু বোস ছিলেন একজন আবেগপ্রবণ সংগঠক যিনি বিপদে-আপদে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের পাশে দাঁড়াতেন। তাঁর অনুপস্থিতি কেবল মোহনবাগান ক্লাব নয়, বরং সামগ্রিক ভাবে বাংলার ক্রীড়া সংগঠনে একটি বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করল। সংবাদপত্রের কর্ণধার হিসেবেও তাঁর নির্ভীক ও গতিশীল ভূমিকা আগামীর জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *