রেখার সিঁদুর রহস্য, ৩৬ বছরের অমীমাংসিত এক দীর্ঘ অধ্যায়
বলিউডের এভারগ্রীন বিউটি রেখা। রূপালি পর্দায় তাঁর সাফল্য আকাশচুম্বী হলেও ব্যক্তিগত জীবনের প্রতিটি মোড় আজও এক কুয়াশাচ্ছন্ন রহস্যের চাদরে ঢাকা। দীর্ঘ ৩৬ বছর আগে স্বামী মুকেশ আগরওয়ালের প্রয়াণ ঘটলেও আজও জনসম্মুখে রেখার সিঁথিতে জ্বলজ্বল করে টকটকে লাল সিঁদুর। বিংশ শতাব্দীর নব্বইয়ের দশক থেকে শুরু হওয়া এই কৌতূহল ২০২৬ সালেও বিনোদন জগতের অন্যতম চর্চিত বিষয়।
মুকেশ আগরওয়াল থেকে ফ্যাশন স্টেটমেন্ট
১৯৯০ সালে দিল্লির শিল্পপতি মুকেশ আগরওয়ালের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন রেখা। কিন্তু বিয়ের মাত্র সাত মাসের মাথায় স্বামীর আত্মহত্যার খবরে থমকে গিয়েছিল অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবন। হিন্দু শাস্ত্রমতে বিধবাদের সিঁদুর পরা বারণ হলেও রেখা এই প্রথাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন বারবার। তবে বিয়ের আগেও তাঁকে সিঁদুর পরতে দেখা গেছে। ১৯৮২ সালে জাতীয় পুরস্কার গ্রহণের সময় খোদ তৎকালীন রাষ্ট্রপতি নীলম সঞ্জীব রেড্ডি তাঁর সিঁদুর নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। সে সময় রেখা এই প্রথাগত চিহ্নটিকে তাঁর শহরের একটি ‘ফ্যাশন’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে ২০০৮ সালের এক সাক্ষাৎকারেও তিনি স্পষ্ট করেন যে, মানুষের প্রতিক্রিয়া নিয়ে তিনি চিন্তিত নন। তাঁর মতে, সিঁদুর পরলে তাঁকে দেখতে ভালো লাগে।
অমিতাভ বচ্চন এবং আত্মিক টান
রেখার সিঁদুর রহস্যের পেছনে জনমানসে সবথেকে বেশি যে নামটি উচ্চারিত হয়, তা হলো অমিতাভ বচ্চন। যদিও এই সম্পর্কের সত্যতা নিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য কখনও সামনে আসেনি। সম্প্রতি চলচ্চিত্র ইতিহাসবিদ হানিফ জাভেরির এক দাবি এই জল্পনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। জাভেরির মতে, দুই কিংবদন্তি তারকার মধ্যে আজও এক গভীর মানসিক সংযুক্তি রয়েছে। একে অপরের বিপদে বা দুঃসময়ে তাঁদের পারস্পরিক অনুভূতির যে টান, তা কেবল বন্ধুত্বের সীমানায় আবদ্ধ নয়। রেখার এই স্বতন্ত্র জীবনধারা এবং প্রথা ভাঙার সাহস তাঁকে সমকালীন অন্য অভিনেত্রীদের থেকে যেমন আলাদা করেছে, তেমনই তাঁর এই নীরব প্রতিবাদ বা সংহতিকে ঘিরে ঘনীভূত হয়েছে অমীমাংসিত প্রশ্ন। মূলত লোকলজ্জার তোয়াক্কা না করে নিজের পছন্দের জীবন কাটানোর এই প্রভাব বলিপাড়ার গ্ল্যামার আর একাকীত্বের এক অনন্য চিত্র তুলে ধরে।