তৃণমূলের একাধিক বিধায়ক আমার সংস্পর্শে, শপথ নিয়েই বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে বুধবার ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে শপথ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা ছাপিয়ে বিধানসভার বাইরে তাঁর একটি মন্তব্য ঘিরে এখন রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু দাবি করেছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক বিধায়ক ইতিমধ্য়েই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁরা ‘স্বাধীনতা’ বোধ করছেন।
তৃণমূল শিবিরে ভাঙনের ইঙ্গিত
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই দাবি রাজ্যের শাসক শিবিরের অন্দরে বড়সড় ফাটলের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। শুভেন্দু জানান, তৃণমূলের বেশ কয়েকজন বিধায়ক তাঁর কাছে এসে নিজেদের মনের কথা জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, “তৃণমূলের একাধিক বিধায়ক আমার কাছে এসেছে। তাঁরা আমাকে বলেছে স্বাধীনতা পেলাম।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি পরোক্ষভাবে বোঝাতে চেয়েছেন যে, বিরোধী শিবিরের একটি বড় অংশ বর্তমান নেতৃত্বের ওপর অসন্তুষ্ট এবং তাঁরা নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।
প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জনমুখী সরকারের প্রতিশ্রুতি
শপথ গ্রহণের পর মুখ্যমন্ত্রী কেবল রাজনৈতিক সমীকরণ নয়, বরং প্রশাসনিক সংস্কার নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, তাঁর সরকার হবে ‘জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা এবং জনগণের সরকার’। বিধানসভার সিঁড়িতে প্রণাম করে তিনি ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদীর লোকসভায় প্রবেশের স্মৃতি উসকে দেন। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিনি সচিবদের ‘মোসাহেবি’ ছেড়ে স্বাধীনভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং নিজের কনভয় ছোট করার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ভিভিআইপি বিড়ম্বনা কমানোর পদক্ষেপ নিয়েছেন।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও কৌশল
শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরের বিধায়ক পদ বেছে নেওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে নন্দীগ্রামের আসনটি ছাড়তে হয়েছে। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, নন্দীগ্রামের উন্নয়নে কোনো ঘাটতি হবে না। অন্যদিকে, রাজনৈতিকভাবে এই ‘বিধায়ক ভাঙানোর’ ইঙ্গিত যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তবে বিধানসভায় বিরোধী দলের শক্তি আরও হ্রাস পেতে পারে। একইসঙ্গে শনিবার থেকে রাজ্যজুড়ে পুলিশকে ‘অ্যাকশন মোডে’ থাকার নির্দেশ দিয়ে তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় তাঁর কঠোর অবস্থানের জানান দিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, শুভেন্দুর এই কৌশল তৃণমূলকে আগামী দিনে আরও বড় সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।