রাজভবন থেকে বিধানসভা সর্বত্রই বদলের ছোঁয়া! নিজের কনভয়ের বহর কমিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন পরিবর্তনের সাক্ষী থাকল কলকাতা। বিধানসভায় বিধায়ক হিসেবে শপথ গ্রহণের আগেই এক বড়সড় প্রশাসনিক ও নৈতিক সিদ্ধান্ত নিলেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কৃচ্ছ্রসাধন ও জ্বালানি সাশ্রয়ের নীতিকে পাথেয় করে নিজের নিরাপত্তার কনভয় থেকে গাড়ির সংখ্যা এক ধাক্কায় কমিয়ে দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে ইতিবাচক চর্চা শুরু হয়েছে।
জ্বালানি সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর পথেই শুভেন্দু
কেন্দ্রীয় স্তরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জ্বালানি বাঁচাতে নিজের কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা ৫০ শতাংশ হ্রাস করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সেই একই মডেল এবার বাংলায় কার্যকর করলেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজভবন থেকে বিধানসভা যাওয়ার পথেই তাঁর এই সিদ্ধান্তের প্রতিফলন দেখা যায়। মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগ কেবল প্রতীকী নয়, বরং সরকারি ব্যয় সংকোচন এবং পরিবেশবান্ধব যাতায়াতের ক্ষেত্রে এক বড় বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনিক মহলের মতে, শীর্ষ পর্যায় থেকে এই কৃচ্ছ্রসাধন শুরু হওয়ার ফলে নীচুতলার আধিকারিক ও মন্ত্রীদের মধ্যেও অপচয় রোধের মানসিকতা তৈরি হবে।
বাসে চড়ে বিধানসভায় বিজেপি বিধায়করা
মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি এদিন নজর কেড়েছেন বিজেপির অন্যান্য বিধায়করাও। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে অধিকাংশ বিধায়কই ব্যক্তিগত বা সরকারি গাড়ি পরিহার করে বাসে চড়ে বিধানসভায় পৌঁছান। জ্বালানি সাশ্রয় এবং ভিভিআইপি কালচার বর্জন করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। উত্তরপ্রদেশে ইতিমধ্যে সপ্তাহে একদিন ‘নো ভেহিকেল ডে’ পালন করা হচ্ছে, যার প্রভাব এবার পশ্চিমবঙ্গেও পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। মন্ত্রিসভা পূর্ণাঙ্গভাবে গঠিত হওয়ার পর সরকারি যাতায়াতের ক্ষেত্রে এই কড়াকড়ি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
শপথ গ্রহণ ও আগামী দিনের পরিকল্পনা
এদিন প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়ের কাছে ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে প্রথম শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। দুই দিনব্যাপী এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ২৯০ জন বিধায়ক অংশ নিচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই কনভয় কমানোর সিদ্ধান্ত রাজ্যের অর্থভাণ্ডারের ওপর চাপ কমাতে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভিআইপি চলাচলের কারণে যে যানজটের সমস্যা তৈরি হয়, কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা কমলে সেই ভোগান্তিও অনেকটা লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।