তৃণমূল শাসিত ১২৮ পুরসভায় কড়া নজরদারি, দুর্নীতি রুখতে সিসিটিভি বসানোর বড় ঘোষণা পুরমন্ত্রীর

রাজ্যের প্রশাসনিক পটপরিবর্তন হলেও এখনও অধিকাংশ পুরসভা ও পুরনিগম বিরোধী শিবিরের দখলে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল পরিচালিত ১২১টি পুরসভা এবং ৭টি পুরনিগমে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং দুর্নীতির মূলে কুঠারাঘাত করতে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। বুধবার বিধানসভায় পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাজ্যের প্রতিটি পুর এলাকায় এবার সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সরাসরি নজরদারি চালানো হবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই এই আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর তদারকির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

সরাসরি দপ্তরের নিয়ন্ত্রণে থাকবে নজরদারি

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শুধুমাত্র রাস্তাঘাট নয়, পুরসভার দপ্তরের অন্দরেও চলবে কড়া নজরদারি। কর্মীরা কখন অফিসে আসছেন বা কখন বেরোচ্ছেন, সেই পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য সরাসরি পুর দপ্তরের কাছে সংরক্ষিত থাকবে। তৃণমূল স্তরের সরকারি কাজে গতি আনা এবং সাধারণ মানুষের পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো দীর্ঘসূত্রতা বা অনিয়ম হচ্ছে কি না, তা সরাসরি কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন খোদ মন্ত্রী। মূলত লাগামহীন দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতেই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

রাজ্যের শাসনক্ষমতা বিজেপির হাতে থাকলেও স্থানীয় স্তরে পুরবোর্ডগুলো এখনও তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণে থাকায় প্রায়ই প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে কলকাতার ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১০০টিরও বেশি এলাকায় তৃণমূলের পরাজয় এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পদ্ম শিবিরের ব্যাপক সাফল্য নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডিসেম্বরের সম্ভাব্য পুরভোটের আগে এই নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে বিরোধী শাসিত পুরসভাগুলোর কর্মকাণ্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে সরকার। এতে একদিকে যেমন সরকারি প্রকল্পের স্বচ্ছতা বাড়বে, অন্যদিকে প্রশাসনিক স্তরে দুর্নীতির ছিদ্রপথগুলো বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *