বিবেক দংশনের জেরে তৃণমূল ছাড়লেন সুজাতা মণ্ডল
বাংলার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে বাঁকুড়া জেলা রাজনীতিতে বড়সড় ধামাকা ঘটালেন সুজাতা মণ্ডল। বুধবার বাঁকুড়া জেলা পরিষদের মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। ভোটের ফলপ্রকাশের পর রাজ্যে যখন নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, ঠিক তখনই সুজাতার এই আকস্মিক প্রস্থান ঘাসফুল শিবিরের অস্বস্তি বাড়িয়ে তুলল।
বিবেকের দংশন বনাম রাজনৈতিক অবস্থান
সাংবাদিক বৈঠকে সুজাতা মণ্ডল দাবি করেন, আরজি করের ‘অভয়া’ কাণ্ডের সময় থেকেই তিনি তীব্র মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছিলেন। একজন নারী হিসেবে সেই সময়েই দল ত্যাগ করতে চাইলেও পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে তা সম্ভব হয়নি। তাঁর কথায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিবেকের সঙ্গে আপস করে রাজনীতি করা তাঁর পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই সমস্ত পদ ছেড়ে দিয়ে তিনি এখন ‘সাধারণ একজন’ হিসেবে থাকতে চান। যদিও ভবিষ্যতে অন্য কোনো দলে যোগ দেবেন কি না, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে কিছু জানাননি।
দলীয় প্রতিক্রিয়া ও বিরোধীদের কটাক্ষ
সুজাতার এই সিদ্ধান্তকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব। বাঁকুড়া জেলা তৃণমূল সভাপতি তারাশঙ্কর রায় এবং জেলা পরিষদের সভাধিপতি অনুসূয়া রায় দুজনেই একে ‘ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁদের মতে, তৃণমূল একটি শক্তিশালী সংগঠন এবং কোনো এক ব্যক্তির চলে যাওয়ায় দলের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। তবে বিরোধী শিবির বিষয়টিকে ছেড়ে কথা বলছে না। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, ক্ষমতার পালাবদলের পরেই নেতাদের ‘বিবেক’ জাগ্রত হওয়া ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তৃণমূলে বড়সড় ভাঙন আসন্ন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সুজাতার এই পদক্ষেপ আগামীর রাজনৈতিক মেরুকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।