প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভুলে বন্ধুত্বের হাত বাড়ালেন ট্রাম্প ও জিনপিং

বিশ্বের দুই প্রধান পরাশক্তি আমেরিকা ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক শীতলতা কাটিয়ে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। বৃহস্পতিবার সকালে বেইজিংয়ের তিয়েনানমেন স্কোয়ারের ‘গ্রেট হল অফ দ্য পিপল’-এ লাল গালিচা সংবর্ধনার মধ্য দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে স্বাগত জানান চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। দুই রাষ্ট্রপ্রধানের এই বৈঠককে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ৯ বছর পর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বেইজিং সফরকে সম্পর্কের বরফ গলার বড় ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয় বরং সহযোগিতার নতুন পথ

বৈঠকের শুরুতেই চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ট্রাম্পের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, দুই দেশের উচিত একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী না হয়ে বরং সহযোগী হিসেবে কাজ করা। জিনপিং বলেন, বর্তমান যুগে প্রধান শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথ খুঁজে বের করা জরুরি। একে অপরকে সফল ও সমৃদ্ধ হতে সাহায্য করার মাধ্যমে একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পও জিনপিংকে ‘বন্ধু’ সম্বোধন করে এই সফরকে অত্যন্ত সম্মানের বলে অভিহিত করেছেন। বেইজিংয়ের এই বৈঠককে এখন পর্যন্ত আয়োজিত সবচেয়ে বড় শীর্ষ সম্মেলন হিসেবেও ব্যাখ্যা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব

দীর্ঘদিনের শুল্ক যুদ্ধ এবং বাণিজ্যিক উত্তেজনার পর এই বৈঠক আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বাণিজ্য ও বিরল খনিজের সরবরাহ এবং ইরানের বর্তমান পরিস্থিতির মতো জটিল ইস্যুতে দুই দেশ কোনো সমঝোতায় পৌঁছালে তা বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে চিনা ভাইস প্রেসিডেন্টের উপস্থিতি এবং দুই নেতার বন্ধুত্বপূর্ণ শারীরিক ভাষা প্রমাণ করে যে, উভয় পক্ষই এখন সংঘাতের চেয়ে সমঝোতাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এই বৈঠকের সফল সমাপ্তি ঘটলে এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথ প্রশস্ত হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *