টলিউড থেকে মুছবে অরাজকতা, দুর্নীতি দমনে রুদ্র-রূপা-হিরণদের কড়া নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর
টলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অরাজকতা, শুটিং বন্ধের সংস্কৃতি এবং নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর আধিপত্য খর্ব করতে এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিল রাজ্যের নতুন সরকার। বুধবার নবান্নে টলিউডের অভ্যন্তরীণ সমস্যা ও দুর্নীতি নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই বিশেষ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ এবং হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের মতো ইন্ডাস্ট্রির পরিচিত মুখ ও জনপ্রতিনিধিরা। মূলত ইন্ডাস্ট্রির দীর্ঘদিনের ‘দাদাগিরি’ ও ‘তোলাবাজি’ বন্ধ করে সুস্থ কাজের পরিবেশ ফেরানোই ছিল এই আলোচনার মূল লক্ষ্য।
অশুভ শক্তির বিনাশ ও নতুন কর্মসংস্কৃতি
বৈঠক শেষে বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ জানান যে, দীর্ঘ সময় ধরে কিছু অশুভ শক্তি চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি জগতকে গ্রাস করে রেখেছে। ফেডারেশনের একাংশের চাপে সিনেমা মুক্তি আটকে দেওয়া কিংবা নির্দিষ্ট অভিনেতাকে বয়কট করার মতো ঘটনা ইন্ডাস্ট্রির ব্যাপক ক্ষতি করেছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, সংস্কৃতি মহলে কোনো প্রকার সিন্ডিকেট রাজ বা অরাজকতা বরদাস্ত করা হবে না। অশুভ শক্তির প্রভাব কাটিয়ে যোগ্য শিল্পীদের কাজের সুযোগ করে দিতে এবং সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।
প্রশাসনের কড়া নজরদারি ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই সমস্যা সমাধানে সংস্কৃতি দপ্তরের উচ্চপদস্থ সচিব ও আধিকারিকদের জরুরি ভিত্তিতে বৈঠকে বসার নির্দেশ দিয়েছেন। নবান্ন সূত্রে খবর, এবার থেকে টলিউডের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কঠোর মনিটরিং করা হবে। এই পদক্ষেপের ফলে চলচ্চিত্র শিল্পের স্থবিরতা কাটবে এবং লগ্নি বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। দাদাগিরি ও তোলাবাজি মুক্ত টলিউড গড়ার লক্ষ্যে সরকারের এই কড়া বার্তায় আশার আলো দেখছেন সাধারণ শিল্পী ও টেকনিশিয়ানরা। সরকারের এই সক্রিয় হস্তক্ষেপে টলিউডে দীর্ঘদিনের অচলবস্থা দ্রুত কাটবে বলে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলের ধারণা।