তৃণমূলের মামলার চ্যালেঞ্জের মুখেই ১৬ রাজ্যে শুরু হচ্ছে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনী

ভোটার তালিকার নিবিড় বিশেষ সংশোধনী বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি টানাপোড়েনের মাঝেই বড় পদক্ষেপ নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গসহ একাধিক বিরোধী দলের আপত্তির তোয়াক্কা না করেই দেশের আরও ১৬টি রাজ্য ও ৩টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে তৃতীয় দফার এই কার্যক্রম শুরুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, ওড়িশা এবং দিল্লির মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে এবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলবে।

কমিশনের তথ্যানুযায়ী, তৃতীয় দফার এই বিশাল কর্মযজ্ঞে প্রায় ৩ কোটি ৯৪ লাখ বুথ-স্তরের আধিকারিক (বিএলও) সরাসরি ময়দানে নামছেন। তাঁরা ৩৬ কোটি ৭৩ লাখ ভোটারের দুয়ারে পৌঁছে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করবেন। এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রায় ৩ লাখ এজেন্টও সহায়তা করবেন। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ৩০ মে থেকে ১৪ অক্টোবরের মধ্যে বাড়ি বাড়ি পরিদর্শনের কাজ শেষ করা হবে এবং ৫ জুলাই থেকে ২১ অক্টোবরের মধ্যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

আইনি জটিলতা ও রাজনৈতিক বিতর্ক

ভোটার তালিকার এই বিশেষ সংশোধনী প্রক্রিয়াটি শুরু থেকেই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। গত বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী বিপর্যয়ের পেছনে এই এসআইআর প্রক্রিয়াকে দায়ী করেছে শাসক দল। তাদের অভিযোগ, এই পদ্ধতির মাধ্যমে নির্বিচারে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যার ফলে বহু প্রকৃত নাগরিক ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এই মর্মে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করা হলে শীর্ষ আদালত তৃণমূলকে নতুন করে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছে। প্রথম দফায় বিহার এবং দ্বিতীয় দফায় পশ্চিমবঙ্গসহ দশ রাজ্যে এই কাজ সম্পন্ন হলেও, বিরোধীদের দাবি এটি নির্বাচনী ফলাফলকে প্রভাবিত করার একটি হাতিয়ার।

প্রক্রিয়ার ব্যাপ্তি ও সম্ভাব্য প্রভাব

নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ফলে হিমাচল প্রদেশ, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ ব্যতীত দেশের প্রায় সর্বত্রই ভোটার তালিকা পরিমার্জনের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাবে। কমিশনের দাবি, একটি নির্ভুল ও স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি করতেই এই নিবিড় সংশোধনী প্রয়োজন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার তালিকা থেকে বড় অঙ্কের নাম বাদ পড়া বা নতুন নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি আগামী নির্বাচনগুলোতে জয়-পরাজয়ের সমীকরণ বদলে দিতে পারে। বিশেষ করে যেখানে তৃণমূলের মতো দলগুলো এই প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, সেখানে তৃতীয় দফার এই প্রয়োগ রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তাপ ছড়াতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *