সৌভাগ্যের চাবিকাঠি এবার গজরাজের হাতে, ঘরের বিঘ্ন কাটাতে কোন কোণে রাখবেন হাতির মূর্তি!
সনাতন ধর্মে হাতিকে বিঘ্ননাশকারী সিদ্ধিদাতা গণেশের প্রতীক হিসেবে অত্যন্ত পবিত্র মনে করা হয়। পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, মা পার্বতীর সৃষ্ট বালকের মস্তকে ঐশ্বরিক আদেশে হাতির মাথা প্রতিস্থাপন করার পর থেকেই এই প্রাণীটি বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। বাস্তুশাস্ত্র ও জ্যোতিষশাস্ত্রেও হাতির গুরুত্ব অপরিসীম। বিশ্বাস করা হয়, ঘরের সঠিক দিকে নির্দিষ্ট ধরনের হাতির মূর্তি স্থাপন করলে কেবল ইতিবাচক শক্তির সঞ্চার হয় না, বরং অধরা স্বপ্ন পূরণের পথও প্রশস্ত হয়।
সুখ ও সমৃদ্ধির দিশা
বাস্তুবিদদের মতে, উত্তর-পূর্ব কোণ বা ঈশান কোণ হলো দেবতাদের স্থান। এই দিকে একটি সাদা হাতির মূর্তি স্থাপন করলে গৃহকোণে অনাবিল শান্তি বজায় থাকে। একইভাবে, আর্থিক উন্নতির জন্য উত্তর দিকে ধাতব হাতি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়, যা সঞ্চয় বৃদ্ধি ও উপার্জনের নতুন পথ খুলে দিতে সহায়ক হতে পারে। অন্যদিকে, জীবনের সার্বিক সমৃদ্ধি কামনায় পূর্ব দিকে কাঠের হাতির মূর্তি রাখা শুভ প্রভাব বয়ে আনে বলে প্রচলিত বিশ্বাস।
সুরক্ষা ও সম্পর্কের বন্ধন
বাড়ির মূল দরজার সোজাসুজি এক জোড়া হাতির মূর্তি ঝুলিয়ে রাখলে তা ঢাল হিসেবে কাজ করে। শাস্ত্রবিদেরা মনে করেন, এটি নেতিবাচক শক্তিকে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতে বাধা দেয় এবং পরিবারকে অশুভ দৃষ্টি থেকে রক্ষা করে। আবার পারিবারিক কলহ দূর করে সদস্যদের মধ্যে মধুর সম্পর্ক বজায় রাখতে দক্ষিণ-পশ্চিম কোণ বা নৈঋত কোণে মা হাতি ও হস্তীশাবকের মূর্তি রাখা অত্যন্ত কার্যকর। এর ফলে পারস্পরিক স্নেহ ও প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় হয়। সঠিক নিয়ম মেনে গজরাজের আরাধনা ও তার প্রতীক ব্যবহার করলে ঘরের বাস্তুদোষ দূর হওয়ার পাশাপাশি সৌভাগ্য সুনিশ্চিত হয়।