দুই আইপিএসকে জেলে ঢুকিয়েছিলাম, পুলিশকে চরম হুঁশিয়ারি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের
কলকাতা হাইকোর্ট চত্বরে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে নজিরবিহীন অশান্তির ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়ছে। এই ঘটনার রেশ ধরে এবার রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান আইনজীবী-সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘরছাড়াদের বাড়ি ফেরানোর ইস্যুতে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে সরাসরি আইনি ব্যবস্থার হুমকি দিয়েছেন তিনি। অতীতে দুই আইপিএস অফিসারকে জেল খাটানোর প্রসঙ্গ টেনে এনে বর্তমান পুলিশ প্রশাসনকে নিজের ‘রেকর্ড’ মনে করিয়ে দিয়েছেন শ্রীরামপুরের সাংসদ।
পুলিশের গাফিলতি ও আইনি পরিণাম
ভোট-পরবর্তী হিংসায় ঘরছাড়াদের সসম্মানে ফেরানোর বিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশকে হাতিয়ার করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এই দায়িত্ব পালনে পুলিশ কোনো অনিয়ম করলে তিনি আদালত অবমাননার মামলা করবেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, পুলিশ যদি আইন অনুযায়ী কাজ না করে তবে কাউকে রেয়াত করা হবে না। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের আমলের উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, এর আগেও তিনি প্রভাবশালীদের ঘুম ভাঙিয়েছিলেন এবং এবারও লড়াই বড় পর্যায়ে নিয়ে যেতে তিনি প্রস্তুত।
রাজনৈতিক সৌজন্য ও প্রশাসনের ভবিষ্যৎ
হাইকোর্ট চত্বরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি পরিচয় নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের তীব্র সমালোচনা করেন কল্যাণ। ১৯৮৫ সাল থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বার কাউন্সিলের সদস্য হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বিরোধীদের প্রতিহিংসাপরায়ণ মানসিকতাকে দায়ী করেন। গত ৪৫ বছরে আদালতের অন্দরে এমন সংস্কৃতি দেখেননি বলে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। মূলত পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা এবং বিরোধী শিবিরের স্লোগান ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনায় তৃণমূলের এই দাপুটে নেতার এমন আক্রমণাত্মক অবস্থান আগামী দিনে রাজ্য প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থার টানাপোড়েনকে আরও উসকে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। পুলিশের কর্মতৎপরতা বৃদ্ধি না পেলে সংঘাত যে আইনি লড়াইয়ের পথে আরও তীব্র হবে, সেই ইঙ্গিতই স্পষ্ট কল্যাণের এই বার্তায়।