দাদার পাশেই এবার ভাই, বিধানসভায় বিধায়ক হিসেবে শপথ নিলেন দিব্যেন্দু অধিকারী

কাউন্সিলর থেকে বিধায়ক এবং পরবর্তীতে সাংসদ হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দিব্যেন্দু অধিকারী ফের রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠা দিব্যেন্দু এবারের বিধানসভা নির্বাচনে এগরার পদ্ম প্রতীকে জয়ী হয়ে বিধানসভায় প্রবেশ করেছেন। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় যখন তিনি বিধায়ক হিসেবে শপথ নিচ্ছেন, তখন তাঁর পাশেই ছিলেন দাদা তথা রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তরুণ মাইতিকে ২৫ হাজার ৬৯২ ভোটে পরাজিত করে দিব্যেন্দুর এই জয় অধিকারী পরিবারের রাজনৈতিক আধিপত্যকে আরও একবার সুপ্রতিষ্ঠিত করল।

সুদীর্ঘ সংসদীয় অভিজ্ঞতার প্রত্যাবর্তন

ভোটের ময়দানে দিব্যেন্দু অধিকারীর পথচলা দীর্ঘদিনের। ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি বিধায়ক হিসেবে কাজ করেছেন। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে দাদার ছেড়ে যাওয়া লোকসভা আসনে উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে দিল্লিতে পাড়ি দেন। ২০২৪ সাল পর্যন্ত খাতায়-কলমে তৃণমূলের সাংসদ থাকলেও সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক অবস্থান বদলে বিজেপিতে যোগ দেন। এবারের নির্বাচনে এগরার ভূমিপুত্র হিসেবে তিনি ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। এই জয় কেবল এক ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং কাঁথির শান্তিকুঞ্জের রাজনৈতিক কৌশলের জয় হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

রাজ্য রাজনীতিতে মেদিনীপুরের প্রভাব

পূর্ব মেদিনীপুর জেলা বরাবরই বাংলার রাজনীতিতে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই জেলার গুরুত্ব অন্য মাত্রায় পৌঁছেছে। নন্দীগ্রামে যেমন প্রত্যাশিতভাবে জয় এসেছে, তেমনই ভবানীপুর উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে শুভেন্দু অধিকারী নিজের রাজনৈতিক উচ্চতাকে এক অনন্য শিখরে নিয়ে গেছেন। এই প্রেক্ষাপটে এগরা আসনে দিব্যেন্দুর জয় বিজেপির সংগঠনকে আরও মজবুত করল। বিধানসভায় শাসক দলের বিরোধিতার পাশাপাশি নিজের দাদার পাশে থেকে সংসদীয় কার্যক্রমে অংশ নেওয়া দিব্যেন্দুর জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার পথ খুলে দিল। এই পালাবদল আগামী দিনে রাজ্যের আইনসভায় অধিকারীদের দাপট আরও বৃদ্ধি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *