ভোটার তালিকায় বড়সড় রদবদল, দেশে শুরু হচ্ছে তৃতীয় পর্যায়ের বিশেষ নিবিড় সংশোধন
গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে এবং ভোটার তালিকার নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১৬টি রাজ্য এবং তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে তৃতীয় পর্যায়ের বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর শুরু করার ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে পশ্চিমবঙ্গসহ ১০টি রাজ্য এবং তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই প্রক্রিয়ার প্রথম দুই পর্যায় সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
সমন্বয় ও মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি
কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে চলমান জনগণনার কাজ বা বাড়ি তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই ভোটার তালিকা পরিমার্জন চলবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সামলাতে প্রায় ৩.৯৪ লক্ষ বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও নিয়োগ করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে কাজের সুবিধার্থে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে ৩.৪২ লক্ষ বুথ লেভেল এজেন্টও তাদের সহায়তা করবেন। এই পর্যায়ে প্রায় ৩৬.৭৩ কোটি ভোটারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাই করবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা।
হিমাচল প্রদেশ, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখের মতো দুর্গম ও তুষারাবৃত এলাকাগুলোকে বর্তমানে এই তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে। আবহাওয়া এবং ভৌগোলিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ওই অঞ্চলগুলোর জন্য পরবর্তীতে পৃথক সময়সূচি ঘোষণা করা হবে।
পরিমার্জনের পরিধি ও প্রভাব
তৃতীয় পর্যায়ের এই তালিকায় ওড়িশা, মিজ়োরাম, সিকিম, মণিপুর, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলঙ্গানা, কর্নাটক, মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ড এবং দিল্লির মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলো রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে মোট ৯৯ কোটি ভোটারের মধ্যে ইতিপূর্বেই ৬০ কোটি ভোটারকে পরিমার্জন প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়েছে। বাকি প্রায় ৪০ কোটি ভোটারকে এই নতুন পর্যায়ের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নিবিড় সংশোধনের ফলে ভুয়া ভোটার বাদ দেওয়া এবং মৃত বা ঠিকানা পরিবর্তন করা ব্যক্তিদের নাম তালিকা থেকে সরানো সহজ হবে। ভোটার তালিকা সম্পূর্ণ নির্ভুল হলে আগামী নির্বাচনগুলোতে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ আরও অর্থবহ হয়ে উঠবে। মূলত স্বচ্ছ নির্বাচনের স্বার্থে ডিজিটাল ডেটাবেসের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের তথ্যের মিল ঘটানোই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য।