বিধায়ক পদে শপথ নিয়েই কুণালের তোপ, নিশানায় দলের অন্দরের স্বজনপোষণ

বেলেঘাটা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিধায়ক হিসেবে শপথ নিয়েছেন কুণাল ঘোষ। তবে শপথ গ্রহণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিজের দলের একাংশের বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে বিস্ফোরক পোস্ট করেছেন তিনি। উত্তর ও মধ্য কলকাতায় দলের কিছু নেতার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি ‘স্বজনপোষণ’ এবং ‘হোয়াটসঅ্যাপ কাঁদুনি পলিটিক্স’ নিয়ে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন এই তৃণমূল নেতা। যা নিয়ে বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে।

তাপস ও সজল প্রসঙ্গ এবং কুণালের আক্ষেপ

কুণাল ঘোষ তাঁর পোস্টে স্পষ্ট জানান যে, তাপস রায় এবং সজল ঘোষের মতো নেতাদের একসময় তৃণমূল ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। ঘটনাচক্রে, এদিন বিজেপির টিকিটে জয়ী তাপস রায়ের কাছেই বিধায়ক হিসেবে শপথ নিতে হয়েছে কুণালকে। এই বিষয়টিকে ‘ভাগ্যচক্র’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি দাবি করেন, যোগ্য নেতাদের ধরে রাখতে না পারা দলের জন্য দুর্ভাগ্যের। বিশেষত উত্তর কলকাতায় দলের সাংগঠনিক ক্ষতির পেছনে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির হাত রয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। কুণালের মতে, যাঁদের কারণে পুরনো ও দক্ষ কর্মীরা দল ছাড়ছেন, তাঁরাই এখন স্বজনপোষণের মাধ্যমে গুরুত্ব পাচ্ছেন।

দলের অন্দরে আত্মবিশ্লেষণের দাবি

বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী পরিস্থিতিতে তৃণমূল কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে কুণাল ঘোষ আত্মবিশ্লেষণের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে, একইভাবে দলীয় কাজকর্ম চললে সাধারণ কর্মীরা ধৈর্য হারাবেন। উত্তর কলকাতা তৃণমূলের সাম্প্রতিক ‘হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ’ সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দলের পরিচালনা পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি জানান। যদিও কুণাল নিজেকে তৃণমূলের অনুগত সৈনিক হিসেবে দাবি করেছেন, তবে তাঁর এই ‘বিদ্রোহী’ সুর দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে আবারও প্রকাশ্যে নিয়ে এল।

পাল্টা প্রতিক্রিয়া বিরোধী শিবিরের

কুণাল ঘোষের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়ের মতে, তৃণমূলের এখন আত্মবিশ্লেষণ করে কোনো লাভ নেই। অন্যদিকে সজল ঘোষের দাবি, কুণাল ঘোষ তাঁদের ধরে রাখার চেষ্টা করলেও তৎকালীন পরিস্থিতিতে দল ছাড়ার সিদ্ধান্তই সঠিক ছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কুণাল ঘোষের এই ফেসবুক পোস্ট শাসক দলের উত্তর ও মধ্য কলকাতার সাংগঠনিক বিন্যাসে বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দলের জয় সত্ত্বেও শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এমন প্রকাশ্য সমালোচনা আগামী দিনে তৃণমূলের অন্দরে শৃঙ্খলা রক্ষা ও সমন্বয়ের ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *