বড় স্বস্তি শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের ফ্যামিলি পেনশনে , আয়ের সীমা বাড়িয়ে ৯ হাজার করল রাজ্য

রাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের পরিবারের জন্য বড়সড় সুখবর দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ফ্যামিলি পেনশনের ক্ষেত্রে যোগ্যতামানে ঐতিহাসিক বদল এনেছে স্কুল শিক্ষা দফতর। নয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, মৃত কর্মীর নির্ভরশীল বাবা-মায়ের মাসিক আয়ের ঊর্ধ্বসীমা একধাক্কায় প্রায় তিনগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের কয়েক হাজার পেনশনভোগী পরিবার সরাসরি উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

পেনশন নীতিতে আমূল পরিবর্তন

এতদিন পর্যন্ত রাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী, মৃত সরকারি পোষিত বা সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মীর বাবা-মা যদি ফ্যামিলি পেনশন পেতে চাইতেন, তবে তাঁদের ব্যক্তিগত মাসিক আয় ৩,৫০০ টাকার বেশি হওয়া চলত না। এই স্বল্প আয়সীমার কারণে অনেক অভাবী পরিবারই সামাজিক সুরক্ষার এই অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। দীর্ঘদিনের দাবি ও বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে সেই আয়ের সীমা বাড়িয়ে এখন ৯,০০০ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ, এখন থেকে মাসে ৯,০০০ টাকা পর্যন্ত ব্যক্তিগত আয় থাকলেও নির্ভরশীল বাবা-মা এই পেনশন পাওয়ার যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন।

বিকাশ ভবনের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ স্বীকৃত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্মী (DCRB) স্কিম, ১৯৮১-এর আওতাভুক্ত সমস্ত শিক্ষক, অশিক্ষক কর্মী এবং পেনশনভোগীদের পরিবার এই বর্ধিত সুবিধা পাবেন। রাজ্যের সরকার সাহায্যপ্রাপ্ত এবং স্পনসরড— উভয় ধরনের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই এই নয়া নিয়ম কার্যকর হবে। গত ১৪ মে থেকেই এই নিয়ম রাজ্যজুড়ে বলবৎ হয়েছে।

আর্থিক সুরক্ষা ও সামাজিক প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বাজারদরের নিরিখে ৩,৫০০ টাকার পুরনো মাপকাঠিটি ছিল অত্যন্ত সেকেলে। সামান্য বার্ধক্য ভাতা কিংবা অন্য কোনো উৎস থেকে নামমাত্র টাকা পেলেও অনেকে ফ্যামিলি পেনশনের তালিকা থেকে বাদ পড়তেন। আয়ের ঊর্ধ্বসীমা ৯,০০০ টাকা করার ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলি বড়সড় আর্থিক সুরাহা পাবে। মূলত মূল্যবৃদ্ধির বাজারে প্রবীণদের সামাজিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতেই রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ। শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সংগঠনগুলো সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে একে সময়ের উপযোগী ও মানবিক পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছে। আয়ের সীমা পরিবর্তন হলেও পেনশন পাওয়ার অন্যান্য প্রশাসনিক শর্তসমূহ আগের মতোই অপরিবর্তিত থাকছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *