১২ বছর পর টলিউডে ‘রাজনীতির রঙ’ নিয়ে বিস্ফোরক লকেট, পাশে না পাওয়ার আক্ষেপে কাঁপছে বিনোদন দুনিয়া

টলিউড ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে শাসকদলের রাজনৈতিক প্রভাব এবং ভিন্ন মতাদর্শের শিল্পীদের কোণঠাসা করে রাখার অভিযোগ নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই চাপা গুঞ্জনকে আবার নতুন করে উসকে দিলেন অভিনেত্রী ও রাজনীতিবিদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। এক দশকেরও বেশি সময় আগের এক তিক্ত অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি জানিয়েছেন, রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কীভাবে ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে থেকেও তাঁকে কাজ হারাতে হয়েছিল এবং সেই কঠিন সময়ে ইন্ডাস্ট্রির কাউকে তিনি পাশে পাননি।

চুক্তি সইয়ের পরেও বাদ পড়ার সেই অন্ধকার দিন

লকেট চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগের তির মূলত ২০১৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের দিকে। তিনি জানান, ২০১৪ সালে যখন তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন, তখন রাতারাতি তাঁর পেশাদার জীবনে বিপর্যয় নেমে আসে। একাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য চুক্তি সই হওয়া সত্ত্বেও প্রযোজকরা তাঁকে সিনেমা থেকে বাদ দিতে বাধ্য হন। লকেটের দাবি, প্রযোজকেরা অসহায়তা প্রকাশ করে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, ‘উপরের মহলের’ কড়া নির্দেশ থাকার কারণেই তাঁকে সিনেমা থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে দিনের পর দিন তাঁকে কাজহীন অবস্থায় ঘরে বসে থাকতে হয়েছিল।

একাকী প্রতিবাদ এবং বর্তমান টলিউডের রূপান্তর

সেদিনের সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে লকেট একাই প্রতিবাদ করেছিলেন বলে সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় আক্ষেপ, সেই দুঃসময়ে টলিউড ইন্ডাস্ট্রির সহকর্মীদের কাউকেই পাশে পাননি। বর্তমানে ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই এই পক্ষপাতিত্ব ও রাজনৈতিক চাপ নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। একে স্বাগত জানিয়ে লকেট ক্ষোভের সুরে বলেন, অনেক দেরি করে হলেও মানুষ এখন সত্য বলতে শুরু করেছেন এবং ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন।

একটা সময় প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বা মিঠুন চক্রবর্তীর মতো মহাতারকাদের সঙ্গে চুটিয়ে বাণিজ্যিক ও সমান্তরাল সিনেমায় অভিনয় করা লকেট এখন রূপালি পর্দা থেকে অনেকটাই দূরে। টলিউডের এই সিন্ডিকেট রাজ ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে বহু প্রতিভাবান শিল্পী অতীতেও কাজ হারিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। লকেটের এই সাম্প্রতিক বিস্ফোরক মন্তব্য বাংলা চলচ্চিত্র জগতে রাজনীতির নগ্ন রূপটিকে যেমন আবারও প্রকাশ করল, তেমনই ভবিষ্যতের মুক্ত ও নিরপেক্ষ কাজের পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *