মেক্সিকোর মাটিতে মার্কিন গুপ্তহত্যা, সিআইএর অভিযান নিয়ে তোলপাড় বিশ্ব রাজনীতি
মেক্সিকোর ভেতরে মাদক চোরাচালানকারী গোষ্ঠী বা কার্টেলগুলোর বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ (CIA) সরাসরি গোপন ও প্রাণঘাতী অভিযান চালাচ্ছে বলে সম্প্রতি দাবি করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন। তবে এই চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনটি মেক্সিকো সরকার ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা উভয়েই সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দিয়েছে। সিএনএন-এর বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সিআইএ-এর অত্যন্ত গোপনীয় শাখা ‘গ্রাউন্ড ব্রাঞ্চ’ মেক্সিকোর মাটিতে সক্রিয় রয়েছে এবং গত মার্চ মাসে সিনালোয়া কার্টেলের মাঝারি সারির এক নেতাকে লক্ষ্য করে চালানো সুনির্দিষ্ট গাড়িবোমা হত্যাকাণ্ডে তাদের সরাসরি ভূমিকা ছিল।
মেক্সিকোর কড়া প্রতিক্রিয়া ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন
সিএনএন-এর এই প্রতিবেদনকে মেক্সিকো সরকার ও জনগণের ক্ষতি করার একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচেষ্টা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাম। এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটির তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি একে ‘মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে তৈরি’ বলে মন্তব্য করেন। মেক্সিকোর নিরাপত্তা সচিব ওমর হামিদ গার্সিয়া হারফুচও এই দাবি নাকচ করে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, মেক্সিকোর ভূখণ্ডে সব ধরনের অভিযান কেবল তাদের নিজস্ব কর্তৃপক্ষই পরিচালনা করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা শুধুমাত্র গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং প্রাতিষ্ঠানিক চ্যানেলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, যেখানে জাতীয় সার্বভৌমত্বকে সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়া হয়।
অভিযোগ অস্বীকার ও সিআইএর ব্যাখ্যা
মেক্সিকোর মাটিতে মার্কিন গুপ্তহত্যার এই অভিযোগকে শুধু মেক্সিকোই নয়, খোদ সিআইএ-ও তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। সিআইএ মুখপাত্র লিজ লায়ন্স সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই প্রতিবেদনটিকে ‘মিথ্যা ও চাঞ্চল্যকর’ বলে উল্লেখ করেছেন। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মতে, এই ধরনের অপপ্রচার মূলত মাদক কার্টেলগুলোর পক্ষ নিয়ে করা হচ্ছে, যা মেক্সিকোতে নিয়োজিত আমেরিকানদের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
ঘটনার নেপথ্য কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
মেক্সিকোর শক্তিশালী মাদক কার্টেলগুলোর সহিংসতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচার রোধে দীর্ঘ দিন ধরেই দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করছে। তবে মেক্সিকোর মাটিতে মার্কিন বাহিনীর সরাসরি সামরিক বা গুপ্ত অ্যাকশনের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল, যা দেশটির সার্বভৌমত্বের নীতিকে আঘাত করে। এই প্রতিবেদনের ফলে মেক্সিকোর অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে মার্কিন হস্তক্ষেপের বিতর্ক নতুন করে উস্কে উঠেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন খবরের সত্যতা না থাকলেও এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর মধ্যকার দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে এক ধরণের অবিশ্বাসের দেয়াল তৈরি করতে পারে, যা ভবিষ্যতে মাদকবিরোধী যৌথ অভিযানগুলোকে বাধাগ্রস্ত করার আশঙ্কা বাড়াবে।