পৈলানের রাজকীয় প্রাসাদ ঘিরে শোরগোল, ১৫ বছরে কীভাবে আকাশ ছুঁল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের সম্পত্তি!
বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের পৈলানের বিলাসবহুল বাড়িটি এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম চর্চার বিষয়। বিশাল লন, সুইমিং পুল, দোলনা এবং বাগানে কৃত্রিম পশুপাখির মূর্তি সাজানো এই প্রাসাদোপম বাড়িটি সাধারণ মানুষের নজর কেড়েছে। সম্প্রতি এক বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে পুলিশি অভিযানের পরই বিধায়কের এই বিপুল সম্পত্তির খতিয়ান প্রকাশ্যে আসে, যা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক বিশ্লেষণ।
হলফনামায় সম্পত্তির উল্কাগতি
নির্বাচনী হলফনামা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিগত ১৫ বছরে বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের সম্পত্তির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েক গুণ। ২০১১ সালে তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ৮৭ লক্ষ টাকা, যা ২০১৬ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১ কোটি টাকায়। ২০২১ সালে তা আরও বৃদ্ধি পেয়ে হয় ১ কোটি ৫৯ লক্ষ টাকা। সর্বশেষ ২০২৬ সালের হলফনামা অনুযায়ী, বর্তমানে তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৩ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে চাষজমি ও বাসজমি মিলিয়েই রয়েছে ২ কোটি ১২ লক্ষ টাকার সম্পত্তি। অথচ, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তাঁর বার্ষিক আয় ছিল মাত্র ৭ লক্ষ ৩১ হাজার টাকা। পৈলানের পাশাপাশি ফলতার উত্তর চালুয়ারি গ্রামেও তাঁর একটি বিরাট বাংলো রয়েছে, যেখানে বছর চারেক আগেও মাত্র একটি মাটির বাড়ি ছিল। তবে পৈলানের বাড়িটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে বিধায়কের পুত্রের দাবি, এই বাড়ির মালিকানা শুধু তাঁর বাবার নয়, এতে তাঁর কাকাদেরও অংশীদারিত্ব রয়েছে।
হুমকি মামলা ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে বিজেপিকে হুঁশিয়ারি ও পুলিশকে তোয়াক্কা না করার বার্তা দিয়ে বিতর্কে জড়ান এই বিধায়ক। এই ভাইরাল ভিডিওর জেরে তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় দুটি এফআইআর দায়ের করা হয়। সেই মামলার সূত্র ধরেই ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা একযোগে তাঁর দুটি বাড়িতে তল্লাশি চালাতে যায়। পুলিশ পৌঁছানোর ঠিক আগেই বিধায়ক এলাকা ছাড়ায় তাঁকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনা এবং একই সাথে বিপুল সম্পত্তির খতিয়ান প্রকাশ্যে আসায় স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আইন অমান্য করার অভিযোগ এবং আয়ের উৎসের সাথে বিলাসবহুল জীবনযাত্রার এই অমিল আগামী দিনে সংশ্লিষ্ট মহলে তাঁর রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।