জ্বালানির ছ্যাঁকায় পুড়ছে কলকাতা, এবার ভ্যাট কমানোর দাবিতে সুর চড়ালো তৃণমূল

দেশজুড়ে এক ধাক্কায় পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৩ টাকা বাড়তেই মধ্যবিত্তের পকেটে টান পড়েছে। লোকসভা ভোট মিটতেই জ্বালানির এই আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। এবার কলকাতায় এক লাফে পেট্রোলের দাম ৩.২৯ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৮.৭৪ টাকায়। পাশাপাশি ডিজেলের দামও ৩.১১ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৯৫.১৩ টাকায় পৌঁছেছে। অগ্নিমূল্য বাজারের এই আবহে পশ্চিমবঙ্গে পেট্রোল-ডিজেলের ওপর থেকে ভ্যাট বা মূল্যযুক্ত কর কমানোর দাবিতে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো, দীর্ঘ এক দশক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় রাজ্যের ভ্যাট কমানো নিয়ে তীব্র অনীহা দেখা গিয়েছিল। সেই সময় রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি বারবার ভ্যাট কমানোর দাবি জানালেও তা কার্যকর হয়নি। তবে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর, এবার বিরোধী আসনে বসতেই সুর বদলেছে ঘাসফুল শিবিরের। তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন সরাসরি বর্তমান রাজ্য সরকারের কাছে ভ্যাট কমানোর দাবি জানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে কেন্দ্রকে আক্রমণ করার পাশাপাশি রাজ্যের বর্তমান শাসকদলকে কাঠগড়ায় তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার কি এবার পেট্রোল-ডিজেলের দামের ওপর থেকে ভ্যাট কমাবে?

আসন বদলাতেই বদলাল ভ্যাটের রাজনীতি

বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে পেট্রোলের ওপর প্রায় ২৪ শতাংশ হারে ভ্যাট ধার্য করা হয়। দেশের অন্যান্য বহু রাজ্যের তুলনায় কলকাতায় জ্বালানির দাম এমনিতেই বেশি। অতীতে যখন তৃণমূল ক্ষমতায় ছিল, তখন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের আবগারি শুল্ক বৃদ্ধির দিকে আঙুল তুলে রাজ্যের ভ্যাট কমাতে অস্বীকার করত তৎকালীন নবান্ন। এখন রাজ্যে ক্ষমতার সমীকরণ বদলাতেই সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। বিরোধী আসনে বসে তৃণমূল এখন ভ্যাট কমানোর দাবিতে সরব, যা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

মূল্যবৃদ্ধির কারণ ও বহুমুখী প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়ে জ্বালানি সংস্থাগুলোর মূল্য সমন্বয়ের কারণেই এই এককালীন বড় অঙ্কের মূল্যবৃদ্ধি। শুধু পেট্রোল-ডিজেলই নয়, কলকাতায় সিএনজির দামও এক ধাক্কায় ৩ টাকা বেড়েছে।

এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়তে চলেছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে স্বাভাবিকভাবেই গণপরিবহন এবং পণ্যবাহী গাড়ি ভাড়ার খরচ বাড়বে। এর জেরে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও শাকসবজির দাম আরও আকাশছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একদিকে কেন্দ্র-রাজ্য রাজনৈতিক টানাপোড়েন আর অন্যদিকে পকেটকাটার পরিস্থিতি— এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *