ফলতায় হুঙ্কার শুভেন্দুর, নাম না করে অভিষেককে তীব্র খোঁচা দিয়ে সব হিসেব নেওয়ার হুঁশিয়ারি

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে পারদ চড়ল আরও একদফা। ডায়মন্ড হারবারে পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক সেরে সোজা ফলতায় পৌঁছালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়ে নাম না করে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র রাজনৈতিক খোঁচা দিলেন তিনি। ফলতায় দাঁড়িয়েই তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, “সব হিসেব হবে…”। শেষ নির্বাচনে অশান্তির জেরে নির্বাচন কমিশন আগামী ২১ মে ফলতায় পুনরায় ভোটের ঘোষণা করেছে। ১৯ মে প্রচারের শেষ দিনে সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর রোড শো করার কথা রয়েছে, যা ঘিরে ইতিমধ্যেই স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তায় কোনো খামতি রাখতে চাইছে না প্রশাসন। এলাকাটিকে কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। এর আগে ভবানীপুর থানার ওসির মেল আইডিতে আলকায়দার নামে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ওপর হামলার হুমকি দিয়ে একটি ইমেল আসায় পুলিশী তৎপরতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে, যদিও সেই ঘটনায় যুক্ত এক যুবককে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার আশ্বাস ও কড়া বার্তা
ডায়মন্ড হারবারের সাগরিকা হোটেলে রাজ্যের মুখ্য সচিব মনোজ আগরওয়াল এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা সহ দক্ষিণ ২৪ পরগনার শীর্ষ প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানান যে রাজ্যে এবার থেকে পুরোপুরি আইনের শাসন চলবে। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে কাউকে যদি ঘুষ দিতে হয়, তবে সরাসরি অভিযোগ জানানোর আহ্বান করেন তিনি। একই সঙ্গে সরকারি সম্পত্তিতে কোনো রকম হামলা বা ভাঙচুর চালানো হলে প্রশাসন যে অত্যন্ত কড়া হাতে ব্যবস্থা নেবে, সেই বার্তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হতে দেখা গেছে মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তীকে। শুভেন্দুর সঙ্গে সাক্ষাতের পর মিঠুন দাবি করেন, ওনার থেকে ভালো মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে হতে পারে না এবং ওনাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পেয়ে রাজ্যবাসী আশীর্বাদধন্য।
উন্নয়নের রোডম্যাপ ও রাজনৈতিক প্রভাব
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পরেই প্রশাসনিক কাজে গতি আনতে মরিয়া শুভেন্দু অধিকারী। দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির দিকেও বিশেষ নজর দিচ্ছেন তিনি। আগামী ২০ মে উত্তরবঙ্গের ৯টি জেলা নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠক ডেকেছেন মুখ্যমন্ত্রী, যেখানে সরকারি প্রকল্পগুলির বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হবে এবং তৈরি করা হবে ভবিষ্যৎ উন্নয়নের রোডম্যাপ। তার ঠিক পরের দিনই অর্থাৎ ২১ মে দক্ষিণবঙ্গের ৫টি জেলা নিয়ে বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফলতায় পুনর্নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রীর এই ঝটিকা সফর এবং ডায়মন্ড হারবারে প্রশাসনিক বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে যেমন তিনি কড়া বার্তা দিয়ে বিরোধী শিবিরকে চাপে রাখার কৌশল নিয়েছেন, অন্যদিকে আইনের শাসন ও তোষণমুক্ত প্রশাসনের আশ্বাস দিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছেন। তবে কয়লার ডিও থেকে তোলাবাজির অভিযোগে পশ্চিম বর্ধমানের অন্ডাল ব্লকের প্রাক্তন তৃণমূল সভাপতি কাঞ্চন মিত্রের গ্রেফতারির মতো ঘটনাগুলিও এই মুহূর্তে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।