৮০ ফুট উঁচু থেকে লাফিয়ে জ্ঞান হারিয়েছিলেন সলমন খান
বলিউডের ‘ভাইজান’ সলমন খান তাঁর সুঠাম শরীর এবং অ্যাকশন দৃশ্যে অভিনয়ের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। ষাট বছর বয়সে পৌঁছেও তরুণদের মতো ফিটনেস বজায় রাখা এই অভিনেতা ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে স্টান্ট করার জন্য কোনো ডুপ্লিকেট বা ‘বডি ডবল’ ব্যবহার করতেন না। নিজের শারীরিক সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের কারণেই একবার শুটিং সেটে এক ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি, যার জেরে প্রায় দেড় মিনিট তাঁর শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ ছিল।
৩৫ বছর আগের সেই ভয়ঙ্কর স্মৃতি
ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৯১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পত্থর কে ফুল’ চলচ্চিত্রের শুটিং চলাকালীন। মুম্বইয়ের ঐতিহাসিক ‘মাউন্ট মেরি’ গির্জার সামনে একটি দৃশ্য ধারণের জন্য সলমনকে প্রায় ৮০ ফুট উঁচু থেকে লাফ দিতে বলা হয়েছিল। অভিনেতার সুরক্ষার জন্য নিচে গদি এবং শোলার বাক্সের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। একটি মাত্র টেকে শটটি শেষ করার তাগিদ এবং নিচে জমে থাকা বিপুল দর্শকের উপস্থিতির কারণে হিসেবের সামান্য গড়মিল হয়ে যায়। সলমন লাফ দেওয়ার পর নির্ধারিত স্থানে না পড়ে সরাসরি ক্যামেরার ওপাশে গিয়ে আছড়ে পড়েন।
দুর্ঘটনার প্রভাব ও শিক্ষা
এই পতনের ফলে সলমন তাঁর পিঠে মারাত্মক আঘাত পান এবং তীব্র যন্ত্রণায় ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে যান। প্রায় দেড় মিনিটের জন্য তাঁর নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এর আগে নব্বইয়ের দশকেই অন্য একটি ছবির শুটিংয়ে পাহাড় থেকে লাফাতে গিয়ে মাথায় গুরুতর চোট পেয়েছিলেন তিনি। তবে ‘পত্থর কে ফুল’ ছবির এই দুর্ঘটনাটি তাঁর মনে গভীর প্রভাব ফেলে। এই ঘটনার পর থেকেই স্টান্ট করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঝুঁকি নেওয়া এবং ছেলেমানুষি জেদ বজায় রাখা বন্ধ করেন অভিনেতা। চিকিৎসকদের মতে, এই ধরণের উচ্চতা থেকে ভুলভাবে পতনে মেরুদণ্ড বা মস্তিষ্কে চিরস্থায়ী আঘাত লাগার ঝুঁকি থাকে, যা থেকে সলমন সে যাত্রায় অলৌকিকভাবে রক্ষা পেয়েছিলেন।