রোগীর সেবায় আরও বড় পদক্ষেপ, এবার কি পুরোপুরি বদলে যাবে বারাসত মেডিক্যাল কলেজের চত্বর!

সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার হাল ফেরাতে এবং রোগীর পরিবারের সুবিধার্থে এবার এক নজিরবিহীন কঠোর পদক্ষেপ নিতে চলেছে বারাসত গভমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের ভেতরে গজিয়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করে সম্পূর্ণ চত্বর দখলমুক্ত করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় বিধায়ক শঙ্কর চ্যাটার্জি। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের অভ্যন্তরে প্রায় কয়েকশো দোকান গড়ে ওঠায় রোগীদের বসার জায়গা ও যাতায়াতের চরম সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। এই সিদ্ধান্তের ফলে হাসপাতালের পরিবেশ যেমন পরিচ্ছন্ন হবে, তেমনই রোগীর পরিবার পরিজনেরা স্বস্তি পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বার্তার পরই তৎপরতা
সম্প্রতি এসএসকেএম হাসপাতালে রাজ্যের স্বাস্থ্যকর্তা ও কলকাতার শীর্ষ আটটি মেডিক্যাল কলেজের প্রধানদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারি হাসপাতালে রোগী প্রত্যাখ্যানের ঘটনা শূন্যে নামিয়ে আনতে তিনি কড়া বার্তা দেন এবং প্রয়োজনে সরকারি তত্ত্বাবধানে বেসরকারি কিংবা কেন্দ্রীয় হাসপাতালে রোগীকে ভর্তি করার নির্দেশ দেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার পরদিনই, শনিবার সকালে বারাসত মেডিক্যাল কলেজ পরিদর্শনে যান বিধায়ক শঙ্কর চ্যাটার্জি। সেখানে তিনি হাসপাতালের এমএসভিপির সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন এবং বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে রোগীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে পরিষেবা খতিয়ে দেখেন।
পরিষেবার মানোন্নয়ন ও অ্যাম্বুলেন্স বিতর্ক
পরিদর্শন শেষে বিধায়ক জানান যে আগের তুলনায় হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও সামগ্রিক পরিষেবার মান অনেকটাই উন্নত হয়েছে। তবে ৬১২টি শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালের বেড সংখ্যা আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। দীর্ঘদিন ধরে বারাসত মেডিক্যালের অ্যাম্বুলেন্স চালকদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার যে অভিযোগ আসছিল, সে বিষয়েও এদিন কড়া মনোভাব দেখান বিধায়ক। তিনি চালকদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে জনস্বার্থে কাজ করার সময় পরিষেবাকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে। চালকেরাও ভবিষ্যতে এই ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন। এই অভিযানের ফলে একদিকে যেমন হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ফিরবে, তেমনই রোগীদের জন্য একটি দালাল ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হবে।