৪৫ ডিগ্রি পারদ ছুঁল আমরাউতি, কালবৈশাখীর সঙ্গে ভারী বৃষ্টির জোড়া ফলায় কাঁপছে দেশ!

একই সঙ্গে চরম দাবদাহ এবং ভারী বর্ষণ, আবহাওয়ার এমন নজিরবিহীন বৈপরীত্যের সাক্ষী হতে চলেছে গোটা দেশ। দেশের এক অংশে যখন পারদ ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে রেকর্ড গড়ছে, অন্য অংশে তখন কালবৈশাখী ও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করেছে আবহাওয়া দফতর। আলিপুর এবং কেন্দ্রীয় আবহাওয়া বিভাগের (আইএমডি) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া সুস্পষ্ট নিম্নচাপ এবং একাধিক বায়ুমণ্ডলীয় সিস্টেমের জেরে আগামী কয়েকদিন দেশজুড়ে এক চরম অস্থির আবহাওয়া বজায় থাকবে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের আবহাওয়া পরিস্থিতির চরম রূপ দেখা গেছে মহারাষ্ট্রের আমরাউতিতে, যেখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পৌঁছেছিল ৪৫.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। বিপরীতে, আসামের হাফলং-এ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৭.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একদিকে ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ ও রাজস্থানে তীব্র তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে কঙ্কন ও গোয়া উপকূলে গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া চরমে পৌঁছেছে। এই তীব্র গরমের মাঝেই একাধিক রাজ্যে স্বস্তির পাশাপাশি দুর্যোগের বার্তা নিয়ে আসছে কালবৈশাখী ও বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়-বৃষ্টি।

নিম্নচাপের জোড়া ধাক্কা ও আবহাওয়ার ভোলবদল

আবহাওয়াবিদদের মতে, এই আকস্মিক পরিবর্তনের প্রধান কারণ বঙ্গোপসাগরের একটি সুস্পষ্ট নিম্নচাপ। দক্ষিণ-পশ্চিম এবং সংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করা এই নিম্নচাপটি বর্তমানে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে ঝুঁকে রয়েছে। এর পাশাপাশি, পূর্ব মধ্যপ্রদেশ এবং তামিলনাড়ু উপকূলে দুটি পৃথক ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় রয়েছে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নিম্নচাপ অক্ষরেখা পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ থেকে শুরু করে উত্তর প্রদেশ, বিহার ও উত্তরবঙ্গের ওপর দিয়ে উত্তর বাংলাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এই জোড়া সিস্টেমের প্রভাবেই মূলত দেশের বিস্তীর্ণ অংশে বজ্রগর্ভ মেঘের সঞ্চার হচ্ছে।

উপকূলে চরম সতর্কতা ও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

এই আবহাওয়াগত পরিবর্তনের প্রामुळे আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং বিহারে কালবৈশাখীর সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এছাড়া আন্দামান, উত্তরবঙ্গ এবং সিকিমে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অরুণাচল প্রদেশ, আসাম, মেঘালয়, কেরল, কর্ণাটক, তামিলনাড়ু ও পন্ডিচেরির মতো এলাকাগুলোতেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, ছত্তিশগড়, অন্ধ্রপ্রদেশ, রাজস্থান, জম্মু ও কাশ্মীর এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতে বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে।

নিম্নচাপ ও ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে সমুদ্রের পরিস্থিতিও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। দক্ষিণ, মধ্য এবং আন্দামান সাগরে সমুদ্র প্রচণ্ড উত্তাল থাকবে, যেখানে ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। একইভাবে, কেরল উপকূলে আরব সাগরে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। মৎস্যজীবী ও উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সমুদ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *