রেলের টিকিটের পাশে ওই ছিদ্রগুলো কেন থাকে? জানলে অবাক হবেন!
রেলওয়ের পুরনো টিকিটের দুই ধারে থাকা ছোট ছোট গোল ছিদ্রগুলো কোনো শৈল্পিক নকশা নয়, বরং তা ছিল রেলের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য। একসময় রেলওয়ে টিকিট ছাপানোর জন্য ডট ম্যাট্রিক্স প্রিন্টারে ‘কন্টিনিউয়াস পেপার’ বা একটানা কাগজের ফিতে ব্যবহৃত হতো। প্রিন্টারের ভেতরে থাকা দাঁতযুক্ত চাকা কাগজের ধারের এই ছিদ্রগুলোতে আটকে গিয়ে কাগজটিকে সোজা পথে এগিয়ে নিতে সাহায্য করত, যা প্রযুক্তিগত ভাষায় ‘স্প্রকেট হোল’ নামে পরিচিত। এই ছিদ্রগুলো টিকিট ছাপার নির্ভুলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মুদ্রণের গতি বৃদ্ধিতে সহায়তা করত।
ছাপার সুবিধার পাশাপাশি নিরাপত্তার খাতিরেও এই ছিদ্রগুলোর বিশেষ গুরুত্ব ছিল। সেই সময় এই বিশেষ কাগজ ও ছিদ্রযুক্ত নকশা সাধারণ বাজারে সহজে পাওয়া যেত না, ফলে ছিদ্রের প্যাটার্ন দেখে সহজেই টিকিটের আসল-নকল যাচাই করা সম্ভব হতো, যা জাল টিকিট তৈরির ঝুঁকি কমাত। প্রযুক্তির বিবর্তনে বর্তমানে ডট ম্যাট্রিক্স প্রিন্টারের জায়গায় এসেছে আধুনিক থার্মাল প্রিন্টার এবং ই-টিকিট ব্যবস্থা। ফলে বর্তমানের ডিজিটাল যুগে এই ছিদ্রযুক্ত কাগজের আর প্রয়োজন না থাকলেও, রেলের ইতিহাসে এই ছিদ্রগুলো একসময়ের সুরক্ষিত মুদ্রণ ব্যবস্থার সাক্ষী হিসেবে রয়ে গেছে।