ক্যান্সার জয়ের পর কি স্বাভাবিক যৌন জীবন সম্ভব? চিকিৎসকদের পরামর্শে জানুন উত্তর!
জরায়ুমুখের ক্যান্সার জয় ও পরবর্তী জীবন: স্বাভাবিকতায় ফেরার চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবতা
চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে হিউম্যান পেপিলোমা ভাইরাস (HPV) দ্বারা সৃষ্ট জরায়ুমুখের ক্যান্সার বা সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার জয় করে এখন অনেক নারীই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসছেন। তবে ক্যান্সারমুক্ত হওয়ার পরবর্তী অধ্যায়ে যৌন স্বাস্থ্য ও প্রজনন সক্ষমতা পুনরুদ্ধারের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। চিকিৎসকদের মতে, ক্যান্সারের চিকিৎসায় অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি বা রেডিয়েশনের প্রভাবে যোনিপথের নমনীয়তা কমে যাওয়া বা সরু হয়ে যাওয়ার (ভ্যাজাইনাল স্টেনোসিস) সম্ভাবনা থাকে, যার ফলে মিলনের সময় শারীরিক অস্বস্তি হতে পারে। তবে ‘ভ্যাজাইনাল ডায়লেটর’-এর ব্যবহার এবং সঠিক কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে এই সমস্যা কাটিয়ে স্বাভাবিক যৌন জীবনে ফেরা সম্ভব।
সন্তান ধারণের বিষয়টি ক্যান্সার জয়ীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয়। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত হলে ‘কোণ সার্জারি’র মাধ্যমে প্রজনন ক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব হলেও, জরায়ু বা ডিম্বাশয় বাদ দেওয়ার প্রয়োজন হলে প্রাকৃতিক উপায়ে গর্ভধারণ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এছাড়া ক্যান্সার জয়ের পর গর্ভধারণ করলেও গর্ভপাতের ঝুঁকি থেকে যায়। তাই প্রজনন পরিকল্পনার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ও নিয়মিত স্ক্রিনিং অপরিহার্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্যাপ স্মিয়ার (Pap Smear) টেস্টের মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে বড় ধরনের অস্ত্রোপচার ও অঙ্গহানির ঝুঁকি এড়ানো যায়। নিয়মিত ফলো-আপ ও চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চললে একজন ক্যান্সার জয়ী নারী শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ জীবনে ফিরে আসতে সক্ষম হন।