তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় ভাঙন, স্পিকারের দফতরে ১৯ সাংসদের নাম জমা!
লোকসভা নির্বাচনের সমাপ্তির পর তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সংকট ও বিদ্রোহী সাংসদদের নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত ১৮ মে লোকসভার স্পিকারের দপ্তরে ২০ জন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদের তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ১৯ জনের নাম নিশ্চিত করা হয়েছে। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বাধীন এই বিদ্রোহী শিবিরে শতাব্দী রায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষ, দীপক অধিকারী ও ইউসুফ পাঠানসহ অন্য সাংসদরা রয়েছেন। চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, এই গোষ্ঠীটি তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে সংসদের ক্ষমতাসীন এনডিএ জোটে যুক্ত হতে আগ্রহী। ১৯৯৮ সালে দল প্রতিষ্ঠার পর তৃণমূল কংগ্রেস এমন বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েনি বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে, বিদ্রোহী তালিকায় নাম থাকা জয়নগরের সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল পুরো বিষয়টি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তিনি বিদ্রোহীদের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে স্বাক্ষরিত মূল চিঠিটি প্রকাশ্যে আনার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রতিমা মণ্ডল স্বীকার করেছেন যে দলে কিছু ভুলত্রুটি ও সমস্যা ছিল, যার ফলে নির্বাচনে পরাজয় হয়েছে। তবে বিদ্রোহী শিবির তাঁকে দলে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে জানিয়েছেন। দলীয় অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য ও সাংগঠনিক ব্যর্থতার কারণে সৃষ্ট এই পরিস্থিতির ফলে তৃণমূলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছে রাজ্য রাজনীতি।