ক্যামাক স্ট্রিট অতীত, কালীঘাটের এই সিদ্ধান্তে শোরগোল!
তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় ধরনের রদবদল ঘটানো হয়েছে, যেখানে অভিষেকের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের পদ বহাল থাকলেও তাঁর দাপট ও ক্ষমতার রাশ অনেকটাই সংকুচিত করা হয়েছে। এখন থেকে তৃণমূলের যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ‘ক্যামাক স্ট্রিট’-এর পরিবর্তে আবারও ‘কালীঘাট’ বা দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সাংগঠনিক পরিচালনায় কর্পোরেট সার্ভে বা আই-প্যাকের রিপোর্টের ওপর আর নির্ভর না করে, পুনরায় পুরনো ও মমতা-পন্থী নেতাদের ওপর আস্থা রাখা হচ্ছে। নতুন বিন্যাস অনুযায়ী, জেলা ও ব্লক স্তরের সংগঠনের রাশ অভিজ্ঞ নেতাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং স্থানীয় স্তরের পদাধিকারী নির্বাচনের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট জেলা সভাপতিদের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।
দলীয় এই রদবদলে একগুচ্ছ নতুন জেলা সভাপতি নিয়োগ করা হয়েছে, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন দমদমের মদন মিত্র, নদীয়া উত্তরের মহুয়া মৈত্র, উত্তর কলকাতার কুণাল ঘোষ, দক্ষিণ কলকাতার বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, দক্ষিণ ২৪ পরগনার শুভাশিস চক্রবর্তী, হাওড়া সদরের রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, চুঁচুড়ার অসিত মজুমদার, ব্যারাকপুরের অমিত গুপ্তা এবং দার্জিলিং সমতলের কুন্তল রায়। এদিকে, তৃণমূলের এই সাংগঠনিক পরিবর্তনকে ‘লোকদেখানো’ ও দলের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ বলে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। বিজেপি নেতা রাহুল সিনহার দাবি, জনরোষ থেকে বাঁচতে এবং ঠেকায় পড়ে তৃণমূল এই কৌশল অবলম্বন করছে, তবে দলে যে ক্ষয়রোগ শুরু হয়েছে, তা এই পরিবর্তনের মাধ্যমে সারিয়ে তোলা সম্ভব নয়।