ইরান চুক্তি নিয়ে পাকিস্তানের চাঞ্চল্যকর কারসাজি!
ইরান ও আমেরিকার মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক অন্তর্বর্তী শান্তিচুক্তির শর্তাবলী প্রকাশে বিলম্বের ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে অস্বস্তিতে পড়েছে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান। ১৫ জুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তির ঘোষণা করলেও বিস্তারিত সমঝোতাপত্র প্রকাশিত হয় দু’দিন পর। এই বিলম্বের জন্য ওয়াশিংটন বিশেষভাবে পাকিস্তান ও কাতারের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতাকে দায়ী করেছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এক পডকাস্টে পাকিস্তানের সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন, যা বৈশ্বিক কূটনীতিতে ইসলামাবাদের ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে পাকিস্তানের ১৫৩তম অবস্থানকেও মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই আস্থার সংকটের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মধ্যস্থতাকারীদের এই অভ্যন্তরীণ সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার এই ১৪ দফা চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ইরান ও লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি বন্ধ, হরমুজ প্রণালী থেকে মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের বাজেয়াপ্ত ২৪ মিলিয়ন ডলার ফেরত দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর বিনিময়ে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার পথ প্রশস্ত করেছে। তবে এই ঐতিহাসিক চুক্তিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের প্রশাসনিক ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার দৈন্যদশা প্রকাশ পাওয়ায় দেশটি বড় ধরনের কূটনৈতিক ধাক্কার মুখে পড়েছে।